নুর মোহাম্মদ বাবু, কাপ্তাই প্রতিনিধি: এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় দুই কলেজের সাফল্যে দেখা গেছে বিশাল ব্যবধান। একদিকে কাপ্তাই নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজের ঈর্ষণীয় সাফল্য, অন্যদিকে কর্ণফুলী সরকারি ডিগ্রি কলেজের হতাশাজনক ফলাফল। দুই প্রতিষ্ঠানের পাসের হারের ব্যবধান প্রায় ৭৪ শতাংশ পয়েন্ট!
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে কাপ্তাই নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৯৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। বিপরীতে কর্ণফুলী সরকারি ডিগ্রি কলেজে পাসের হার মাত্র ১৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ। দুই প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত পাসের হার ৩৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, কাপ্তাই নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় মোট ১৭০ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৫৯ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ব্যবসায় শিক্ষা শাখার তিন শিক্ষার্থী। তাঁরা হলেন মোহাম্মদ আতিক, প্রান্ত চক্রবর্তী ও উম্মে হাবিবা মায়া। পাসের হারে প্রতিষ্ঠানটি রাঙামাটি জেলার মধ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে।
অন্যদিকে, কর্ণফুলী সরকারি ডিগ্রি কলেজের ফলাফলে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ৬২৫ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন মাত্র ১২৩ জন। পাসের হার ১৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ। তবে কলেজটির ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন।
কাপ্তাই নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কমান্ডার আলিফ উল্লাহ ও উপাধ্যক্ষ এম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এ বছর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফলে বিপর্যয় দেখা গেছে। এর পরও আমাদের প্রতিষ্ঠানের পাসের হার ৯৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ। তবে আমরা এ ফলাফলে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নই। আগের বছরগুলোতে আমাদের প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করত এবং জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও অনেক বেশি ছিল।’
অন্যদিকে, কর্ণফুলী সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. নাছির উদ্দিন বলেন, ‘গত বছর আমাদের কলেজের প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছিল। তাদের অনেকে এ বছরও অকৃতকার্য হয়েছে। এর প্রভাব সামগ্রিক ফলাফলে পড়েছে।’
দুই কলেজের ফলাফলের এই বিশাল ব্যবধান কাপ্তাইয়ের শিক্ষাঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে কর্ণফুলী সরকারি ডিগ্রি কলেজের এমন ফলাফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
