শনিবার | অক্টোবর ৩১, ২০২৬
প্রচ্ছদ মেট্রোরেলে ধীরগতি ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ এমডির বিরুদ্ধে তদন্ত চেয়ে আবেদন

মেট্রোরেলে ধীরগতি ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ এমডির বিরুদ্ধে তদন্ত চেয়ে আবেদন

স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকা মেট্রোরেলের প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি, প্রশাসনিক জটিলতা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অসন্তোষ এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ উঠেছে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শওগাতুল আলমের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন আজিজুর রহমান নামের এক ব্যক্তি।

গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দেওয়া ওই আবেদনে মেট্রোরেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, প্রকল্প পরিচালনায় দক্ষতা এবং তাঁর নিয়োগপ্রক্রিয়ার যথার্থতা খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীর যানজট নিরসন ও আধুনিক গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে মেট্রোরেল একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো প্রকল্প। কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থাপনায় প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রত্যাশিত গতি বজায় থাকছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মো. শওগাতুল আলম ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটারে কিউরেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভাবনাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রামাণ্যচিত্র ও দৃশ্যভিত্তিক উপস্থাপনা তৈরির সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল বলে আবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁর অতীত কর্মপরিচয়, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং মেট্রোরেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা প্রয়োজনীয় নথিপত্রের ভিত্তিতে পর্যালোচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আবেদনকারীর অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের আচরণ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় অসন্তুষ্ট হয়ে তিনজন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। এসব পদত্যাগের প্রকৃত কারণ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া মেট্রোরেলের বিভিন্ন স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণ, বিদ্যুৎব্যবস্থা ও নির্মাণকাজের মান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সীমা, বাস্তব অগ্রগতি, ব্যয় এবং কারিগরি মান যাচাইয়ে স্বাধীন কারিগরি নিরীক্ষা ও প্রশাসনিক পর্যালোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টিও আবেদনে গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে জাপানি প্রতিষ্ঠান মারুবেনিসহ সংশ্লিষ্ট বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজের সমন্বয় ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রকল্পের কাজ, চুক্তি বাস্তবায়ন কিংবা ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নিকট দেওয়া আবেদনে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকল্পের অগ্রগতি ও নির্মাণকাজের মান যাচাই, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আচরণসংক্রান্ত অভিযোগ পর্যালোচনা, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখা এবং তাঁর নিয়োগের যোগ্যতা ও প্রক্রিয়া যাচাই।

আবেদনকারী আরও বলেছেন, তদন্তে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অনিয়ম কিংবা বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে মেট্রোরেলের চলমান ও ভবিষ্যৎ প্রকল্প দ্রুত, স্বচ্ছ ও মানসম্মতভাবে বাস্তবায়নে কার্যকর তদারকি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

আবেদনে বলা হয়েছে, মেট্রোরেল কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পদ নয়; এটি জনগণের অর্থে গড়ে ওঠা জাতীয় সম্পদ। তাই এ প্রকল্পের নেতৃত্বে থাকা কর্মকর্তাদের জবাবদিহি, দক্ষতা ও পেশাদারত্ব নিশ্চিত করা জরুরি।

তবে আবেদনকারীর উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং স্বাধীন তদন্তের ফলাফল ছাড়া সেগুলোকে প্রমাণিত অনিয়ম হিসেবে বিবেচনার সুযোগ নেই। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আবেদনকারী আজিজুর রহমান।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মেট্রোরেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শওগাতুল আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হয় এবং ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়। তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা