শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশচট্টগ্রাম মহেশখালীর দুই টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বেড়ে ৭৪০ মিলিয়ন ঘনফুট

মহেশখালীর দুই টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বেড়ে ৭৪০ মিলিয়ন ঘনফুট

রিয়াজ উদ্দিন, কক্সবাজার প্রতিনিধি : টানা কয়েক সপ্তাহের গ্যাস-সংকটের মধ্যে মহেশখালীর ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। রোববার সকালে দুটি টার্মিনাল থেকে মোট প্রায় ৭৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দিনের শেষ দিকে সরবরাহ আরও বাড়তে পারে। এতে দেশের চলমান গ্যাস-সংকট কিছুটা কমার আশা করা হচ্ছে।

মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল-সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, রোববার সকালে সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির দুটি টার্মিনাল থেকে প্রায় ৭৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছিল। যদিও দুটি টার্মিনালের সম্মিলিত সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিকেলের দিকে সরবরাহ আরও বাড়তে পারে।

এর আগে শনিবার দুপুরে এলএনজি কার্গো নিয়ে একটি নতুন জাহাজ বঙ্গোপসাগরে এসে মহেশখালীর এক্সিলারেট টার্মিনালের সঙ্গে যুক্ত হয়। টানা তিন দিন বন্ধ থাকার পর শনিবার বিকেল থেকে ওই টার্মিনাল পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ শুরু করে। শনিবার বেলা ২টা থেকে ঘণ্টায় প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে সরবরাহ শুরু হলেও রাত ৯টার পর তা কিছুটা বাড়ানো হয়।

জ্বালানি বিভাগের অনুমোদনে দেশে এলএনজি আমদানি কার্যক্রম তদারকি করে পেট্রোবাংলা। আমদানির দায়িত্বে রয়েছে পেট্রোবাংলার আওতাধীন রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)।

২৫ দিনের সংকটের পর স্বস্তির আভাস
এর আগে টানা ২৫ দিনের তীব্র গ্যাস-সংকটের পর গত ১৫ আগস্ট মহেশখালীর সামিট টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিকভাবে চালু হলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়ে। তবে নতুন এলএনজি কার্গো না আসায় এক্সিলারেটের সরবরাহ ধীরে ধীরে কমে যায়। একপর্যায়ে গত বুধবার বিকেলে টার্মিনালটির সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

শনিবার নতুন এলএনজি কার্গো পৌঁছানোর পর টার্মিনালে থাকা মজুত থেকে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু করে এক্সিলারেট।

দেশে গত কয়েক বছর ধরে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমছে। ঘাটতি পূরণে ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির এবং অন্যটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান সামিটের।

গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যায়। ১৫ আগস্ট টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে এলএনজি সরবরাহের উপযোগী হলেও নতুন কার্গো না থাকায় পুরোনো মজুত থেকে সীমিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। এক্সিলারেট বন্ধ থাকার সময়ে সামিট টার্মিনাল সক্ষমতার তুলনায় বেশি গ্যাস সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে এলএনজির মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় সামিট থেকেও একপর্যায়ে সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়।

চাহিদার তুলনায় ঘাটতি বিপুল
দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে সর্বোচ্চ প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ১ হাজার ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয়। বাকি গ্যাস আসে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত এক মাস ধরে এলএনজি সরবরাহ টার্মিনালগুলোর সক্ষমতার গড়ে প্রায় অর্ধেকের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। নতুন কার্গো আসায় এক্সিলারেট টার্মিনাল থেকে সরবরাহ পুনরায় শুরু এবং দুই টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে শিল্প, বিদ্যুৎ ও আবাসিক খাতে গ্যাসের চাপ কিছুটা কমতে পারে।

তবে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের বড় ব্যবধান পুরোপুরি কাটাতে নিয়মিত এলএনজি আমদানি এবং দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর ওপরই নির্ভর করতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা