শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ কক্সবাজারে ২ হাজার আইফোনসহ ৬ চীনা নাগরিক গ্রেফতার

কক্সবাজারে ২ হাজার আইফোনসহ ৬ চীনা নাগরিক গ্রেফতার

রিয়াজ উদ্দিন, কক্সবাজার : কক্সবাজারের রামুতে প্রায় দুই হাজার আইফোন, ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম জব্দ করেছে পুলিশ। এ সময় আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ছয় চীনা নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন গোয়েন্দা নজরদারি ও তদন্তের পর রামুর মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন কয়েকটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, প্রায় ৪০টি ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটারসহ বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

এ ঘটনায় রামু থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে। গ্রেফতার ছয় চীনা নাগরিককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. অহিদুর রহমান জানান, গোয়েন্দা নজরদারি ও দীর্ঘ তদন্তের পর তাদের গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিকভাবে তারা বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করার কথা জানালেও পরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়। এরপর ঢাকাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশেষায়িত তদন্ত দল বিষয়টি খতিয়ে দেখে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চীনা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের পর গ্রেফতার ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণা চক্রের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট দূতাবাস ও কর্তৃপক্ষের ক্লিয়ারেন্স এবং ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের পর্যালোচনার পর তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

পুলিশ আরও জানায়, প্রাথমিক তদন্তে চক্রটির স্টারলিংক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইন শেয়ারবাজার, জুয়া ও বিভিন্ন কারেন্সি-সংক্রান্ত প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিদের পাসপোর্ট ব্লক করে দেওয়া হয়েছিল। ফলে তারা দেশত্যাগ করতে পারেনি। ইমিগ্রেশনসহ বিভিন্ন পয়েন্টে তাদের বিষয়ে সতর্কতা জারি থাকায় দেশ ছাড়ার চেষ্টা করলেও তাদের আটকে দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, রামুর মেরিন ড্রাইভের কয়েকটি হোটেলে গত কয়েক মাস ধরে বিপুলসংখ্যক চীনা ও তাইওয়ানের নাগরিক অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ অনলাইনভিত্তিক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েকটি হোটেলে তাদের অবস্থানের তথ্য পাওয়া গেছে বলেও সূত্রটি জানিয়েছে।

এদিকে জব্দ করা আইফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ডিভাইস পরীক্ষা করে সেগুলো কীভাবে ব্যবহার করা হতো এবং এর সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও জব্দ করা ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষা শেষে চক্রটির কার্যক্রম সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এ ঘটনায় সিআইডিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সংস্থা কাজ করছে। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা