শনিবার | সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ আমিনবাজারে আলতাফ হত্যা : গ্রেপ্তার ৯, প্রধান আসামি জহিরুলের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন

আমিনবাজারে আলতাফ হত্যা : গ্রেপ্তার ৯, প্রধান আসামি জহিরুলের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন

ফাহাদ-ই-আজম, সাভার : ঢাকার সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকায় তুচ্ছ বিরোধকে কেন্দ্র করে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ জনে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এবং চারজনকে তদন্তে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার পর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি ওই ঘটনার সূত্রপাত হওয়া প্রাইভেটকারটির চালক ও মালিক বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত এসআই আলতাফ হোসেনের স্ত্রী বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে ঘটনাটিকে সংঘবদ্ধ হামলা ও হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

শনিবার রাতে আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকার একটি মসজিদের সামনে সড়কে অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে অটোরিকশা গ্যারেজের মালিক আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে প্রাইভেটকারে থাকা কয়েকজনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।

ঘটনাস্থলের কাছেই ছিলেন এসবির এসআই আলতাফ হোসেন। গ্যারেজ মালিককে কেন মারধর করা হচ্ছে—এমন প্রশ্ন তুলে তিনি প্রতিবাদ করেন। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে হামলাকারীদের সঙ্গে আলতাফ হোসেনেরও কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়।

পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আলতাফ হোসেন তাঁর ছেলে আরিফুল ইসলামকে নিয়ে কাছের একটি গেঞ্জি কারখানায় আশ্রয় নেন। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা তাঁদের পিছু নিয়ে কারখানার ভেতরে ঢুকে পড়ে। সেখানে লাঠিসোঁটা দিয়ে আলতাফ হোসেন ও তাঁর ছেলে আরিফুল ইসলামের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করা হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর। গুরুতর আহত আরিফুল ইসলাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পালানোর চেষ্টা, রাতভর অভিযান

ঘটনার পর অভিযুক্তরা বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে যায় বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়। প্রথমে প্রধান আসামি জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর আমিনবাজার, ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে চারজনকে মুন্সীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ যাচাই করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে হামলার পুরো ঘটনা ও প্রত্যেকের ভূমিকা সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের মতে, একটি অটোরিকশা রাখা নিয়ে শুরু হওয়া বিরোধ কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে প্রাণঘাতী হামলায় রূপ নিল, কারা হামলায় সরাসরি অংশ নিয়েছিল এবং কার নির্দেশনায় হামলা হয়েছে—এসব বিষয় এখন তদন্তের মূল কেন্দ্রে। মামলায় থাকা বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা