বৃহস্পতিবার | সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ দীর্ঘদিনের দাবির পর স্টোর স্টেশনের বায়তুস সালাম জামে মসজিদের পুন:র্নিমাণ শুরু

দীর্ঘদিনের দাবির পর স্টোর স্টেশনের বায়তুস সালাম জামে মসজিদের পুন:র্নিমাণ শুরু

মাতামুহুরী থেকে ওমর ফারুক : মুসল্লিদের দীর্ঘদিনের দাবির পর অবশেষে চকরিয়া-পেকুয়া আসনের মাতামুহুরী উপজেলার ভেওলা মানিকচর ইউনিয়নের স্টোর স্টেশন এলাকার ঐতিহ্যবাহী বায়তুস সালাম জামে মসজিদের পুন:র্নিমাণের কাজ শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের প্রয়োজন থাকলেও অর্থের সংকটে এতদিন বড় পরিসরে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। এবার মসজিদটি আধুনিক ও বৃহৎ পরিসরে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বায়তুস সালাম জামে মসজিদটি ওই এলাকার অন্যতম বৃহৎ মসজিদ। মসজিদের আশপাশে রয়েছে দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি ফাজিল মাদ্রাসা, দুটি সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড় বাজার ও স্টোর স্টেশন।

ফলে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ নানা কাজে এ এলাকায় আসেন। বিশেষ করে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় মসজিদটিতে মুসল্লিদের ব্যাপক সমাগম ঘটে। নামাজের সময় মসজিদের অভ্যন্তরীণ স্থান ছাড়িয়ে পাশের জায়গাতেও মুসল্লিদের অবস্থান করতে হয়।

স্থানীয় মুসল্লিদের দাবি, কয়েক দফা সংস্কার করা হলেও ক্রমবর্ধমান মুসল্লির চাপ সামাল দিতে মসজিদটির বর্তমান অবকাঠামো আর যথেষ্ট নয়। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে মসজিদটি পুন:র্নিমাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন তারা।

মসজিদ পুন:র্নিমাণের জন্য চকরিয়া-পেকুয়া আসনের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের কাছেও সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভেওলা মানিকচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রোকন উদ্দিন মো. বাবর , মসজিদ কমিটির আহ্বানে একটি বৈঠক করেন। সেখানে তিনি মসজিদটির নির্মাণকাজে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন বলে মসজিদ কমিটি জানিয়েছে। এরপরই পুন:র্নিমাণের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ।

মসজিদ কমিটি সূত্রে জানা গেছে, নতুন মসজিদ ভবনটি তিনতলা বিশিষ্ট করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত নকশা অনুযায়ী আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বৃহৎ মসজিদ নির্মাণে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। ইতোমধ্যে পুরোনো স্থাপনা ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম বলেন, “বিভিন্ন কারণে এতদিন মসজিদটির পুন:র্নিমাণের কাজ শুরু করতে বিলম্ব হয়েছে। এবার আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ শুরু করেছি। ইনশাআল্লাহ, সবার সহযোগিতা পেলে মসজিদটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।”

মসজিদ কমিটির সিনিয়র সদস্য আবু তালেব বলেন, “এই মসজিদ নির্মাণ আমার জীবনের শেষ স্বপ্নগুলোর একটি। মসজিদটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে জীবনের বড় একটি আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে। এ কাজে আমি সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে চাই। পাশাপাশি এলাকার সর্বস্তরের মানুষের কাছেও মসজিদ নির্মাণে সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছি।”

এদিকে এলাকার সচেতন মুসল্লি ও বাসিন্দারা বলছেন, শুধু বড় ভবন নির্মাণ নয়, মসজিদটির নকশায় আধুনিক নির্মাণশৈলী, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, নামাজিদের প্রয়োজনীয় সুবিধা, অগ্নিনিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুৎ বা আধুনিক স্বয়ংক্রিয় বিদ্যুৎব্যবস্থা সংযুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, প্রবাসী, ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতায় বায়তুস সালাম জামে মসজিদের নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে যাবে। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যতে স্টোর স্টেশন ও আশপাশের এলাকার বিপুলসংখ্যক মুসল্লির নামাজ আদায়ের একটি আধুনিক ও বৃহৎ ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে গড়ে উঠবে।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা