বৃহস্পতিবার | সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
প্রচ্ছদ বাণিজ্য আপাতত বর্ধিত ২০ শতাংশ দাম প্রত্যাহার, আগের দামেই বেকারি পণ্য বিক্রি করার হবে

আপাতত বর্ধিত ২০ শতাংশ দাম প্রত্যাহার, আগের দামেই বেকারি পণ্য বিক্রি করার হবে

স্টাফ রিপোর্টার : শ্রমজীবী মানুষের ক্ষুধা নিবারণের বড় ভরসা রাস্তার পাশের টং দোকানের বনরুটি, পাউরুটি, কেকসহ নানা বেকারি পণ্য।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে দাম বাড়ার পাশাপাশি কমেছে পণ্যের ওজন ও পরিমাণ। ফলে বাড়তি খরচ করেও মিলছিল না কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি।

বাড়তি দামে ক্ষোভ প্রকাশ করে কয়েকজন ভোক্তা জানান, ১০ টাকার রুটিটা ১৫ টাকা, যা আমাদের জন্য কষ্টকর। অন্যদিকে পণ্য আগের মতো নেই। তুলনায় ছোট হয়ে গেছে। নিম্নবিত্তদের কোনোভাবেই না মিটছে ক্ষুধার চাহিদা, না তারা তাদের পরিবারের যে ক্রাইসিস, সেটাও মেটাতে পারছে।

শিক্ষার্থীদের টিফিনের বাজেটে টান পড়ার পাশাপাশি কর্মজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষ বেকারি পণ্যের হুটহাট দাম বৃদ্ধিতে পড়েন চরম বিপাকে।

দাম বাড়ায় বিপাকে পড়া শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরা জানান, পণ্যের পরিমাণ যতটুকু ছিল, তার চেয়ে একটু কমানো হয়েছে; কিন্তু দাম বাড়ানো হয়েছে। এর প্রভাব পড়বে আসলে খেটে খাওয়া নিম্নবিত্ত পরিবারের ওপর পড়বে। যারা দিন এনে দিন খায়, তাদের ওপরই পড়বে। ফলে এটা এক ধরনের গরিবের পেটে লাথি মারার মতো বিষয়।

অন্যদিকে, হুট করে বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি করতে গিয়ে ক্রেতাদের তীব্র ক্ষোভ আর জবাবদিহির মুখে পড়তে হয় খুচরা বিক্রেতাদেরও।

তবে বিক্রেতারা বলছেন, ১০ টাকার রুটি এখন ১৫ টাকা হইলে অবশ্যই ক্রেতাদের সঙ্গে তো দরদাম করতে হয়। ডবল বাড়ায় দিছে। এটা নিয়ে মানে অনেকেই স্টুডেন্ট লোক আমাদের কথা বলতে। কারণ আমরা তো ব্যবসা করি স্টুডেন্টদের লগে।

তবে বিক্রেতারা বলছেন, ১০ টাকার রুটি এখন ১৫ টাকা হলে অবশ্যই ক্রেতাদের সঙ্গে তো দরদাম করতে হয়। এটা নিয়ে অনেকের সঙ্গে কথা বলতে হচ্ছে। কারণ আমরা তো স্টুডেন্টদের সঙ্গে ব্যবসা করি।

এরই মধ্যে বাজার নিয়ন্ত্রণে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বেকারি মালিক সমিতির এক জরুরি বৈঠকের পর আসে নতুন সিদ্ধান্ত।

আপাতত বর্ধিত ২০ শতাংশ দাম প্রত্যাহারে সম্মতি দেন বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি মালিক সমিতি। তাই আগের দামেই পণ্য বিক্রি করার হবে, বলে জানান সংগঠনটির সভাপতি।

এদিকে, বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলছেন, সাত দিনের জন্য ভেতরে একটি কমিটি করা হয়েছে। পণ্যের দাম বৃদ্ধি আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। আজকে তো আগের মূল্যে মাল বিক্রি হচ্ছে।

এর আগে, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বেকারি পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যয়, কাঁচামালের মূল্য, কর ও শুল্কসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় পর্যালোচনায় বাংলাদেশ ট্রেড ও ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

৭ দিনের মধ্যে কমিটির দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানায় বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি মালিক সমিতি।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা