রবিবার | সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ মিছিলের ভিডিও থেকে ৫৩ নাম, মহেশখালীতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা

এজাহারে একই নাম দুইবার, নিরীহদের আসামি করার অভিযোগ :

মিছিলের ভিডিও থেকে ৫৩ নাম, মহেশখালীতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা

কক্সবাজার থেকে রিয়াজ উদ্দিন : একটি মিছিল ও অবস্থানকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারের মহেশখালীতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীসহ ৫৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর মহেশখালী থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়।

মামলাটি শুধু আসামির সংখ্যার কারণে নয়, এজাহারে আসামিদের শনাক্ত করার বর্ণনা এবং পরে ওঠা কয়েকটি অভিযোগের কারণে আলোচনায় এসেছে।

যেভাবে শনাক্তের দাবি পুলিশের
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টার দিকে কালারমারছড়া ইউনিয়নের চালিয়াতলী-শাপলাপুর সড়কে কুদ্দুস চেয়ারম্যানের খামারবাড়ির সামনে একদল লোক মিছিল ও অবস্থান করছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়।

পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা দৌড়ে পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তখন কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

এরপর ঘটনাস্থলে থাকা সাক্ষী ও স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি মিছিলের ভিডিও পর্যালোচনা করে আসামিদের নাম-ঠিকানা শনাক্ত করা হয়েছে বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

পুলিশের অভিযোগ কী
পুলিশের এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, মিছিল ও অবস্থানের মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার, রাষ্ট্রের ক্ষতিসাধনের চেষ্টা, রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহায়তা, অর্থায়ন, আশ্রয় ও প্ররোচনার মতো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।

এ ছাড়া একই দিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে মাতারবাড়ী ইউনিয়ন এলাকাতেও সরকারবিরোধী মিছিলের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ৮, ৯, ১০, ১২ ও ১৩ ধারায় মামলা করা হয়েছে।

৫৩ নামের সঙ্গে অজ্ঞাত আরও ৩০–৪০
মামলায় কালারমারছড়া, মাতারবাড়ী, শাপলাপুর, বড় মহেশখালী ও হোয়ানক এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে মোট ৫৩ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে। এর বাইরে অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বাদী মহেশখালী থানার মাতারবাড়ী পুলিশ ক্যাম্পের এসআই (নিঃ) মো. মোজাহারুল ইসলাম।

এজাহারেই উঠেছে নাম নিয়ে প্রশ্ন
তবে মামলাটি দায়েরের পর এজাহারে আসামিদের তালিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, একজন ব্যক্তির নাম দুইবার এসেছে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের সদস্য বা সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন—এমন নিরীহ ব্যক্তিকেও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার তথ্য এজাহারে নেই। ফলে কার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ কতটা সত্য, তা তদন্তের বিষয়।

মহেশখালী থানায় দায়ের হওয়া এ মামলায় এখন তদন্তের মাধ্যমে মিছিলের সঙ্গে কারা সম্পৃক্ত ছিলেন, এজাহারে উল্লেখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি কী এবং তালিকায় কোনো ভুল বা পুনরাবৃত্তি রয়েছে কি না—এসব বিষয়ই সামনে আসবে।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা