মঙ্গলবার | সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ টাঙ্গাইলে ব্রিজে রডের বদলে রাতের আঁধারে বাঁশ দিয়ে ঢালাই

টাঙ্গাইলে ব্রিজে রডের বদলে রাতের আঁধারে বাঁশ দিয়ে ঢালাই

মনোয়ার হোসেন সোহেল, ঘাটাইল টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলে ব্রিজে রডের বদলে রাতের আঁধারে বাঁশ দিয়ে ঢালাই এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় সমালোচনার ঝড় । বাসাইল উপজেলার এলজিইডির ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজে রাতের আঁধারে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

সোমবার ( ২১ সেপ্টেম্বর ) দুপুরে সরেজমিন পরিদর্শন করে এর সত্যতা পেয়েছেন বাসাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন।

স্থানীয়রা জানান, বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া মরাগাঙ্গীতে ব্রিজটির নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই দিনের কাজ রাতের আঁধারে করা হচ্ছিল। এতে সন্দেহ হলে তারা গোপনে নির্মাণকাজ পর্যবেক্ষণ করেন। রাতে একপর্যায়ে ব্রিজের কাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি দেখতে পান।

বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা যায়, বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০.০৬ মিটার দীর্ঘ গার্ডার ব্রিজ পুনর্নির্মাণের কাজ পায় মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় বাসিন্দা শিহাব খানশূর বলেন, মাইজখাড়ার ভেতরে যে ব্রিজটি হচ্ছে, তাতে বাঁশ দিয়ে ঢালাই করা হচ্ছে। সরকার যে টাকা দিল, এই টাকা তাহলে গেল কই? আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আজিজ মিয়া বলেন, ব্রিজটির কাজ করবে দিনে, তারা কাজ করছে রাতে। এলাকার ছেলেরা রাতে গিয়ে দেখে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই দিচ্ছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার শরিফুল ইসলাম বলেন, এই গ্যাপগুলোর ভেতরে খোলা। ভেতরে তো শাটার বের করার সুযোগ নেই। আর এটা বাঁশ দিয়ে স্লাব বানিয়ে ওপরে সিমেন্টের একটা বস্তা দিয়ে খাঁচা দিয়ে আমরা ঢালাই করেছি।

বাসাইল উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, ব্রিজের নির্মাণকাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টির সত্যতা পেয়েছি। তবে এ কাজের দায়ভার উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর নেবে না। এটি জেলা প্রকৌশল দপ্তরের কাজ। বিষয়টি জেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে। বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, বিষয়টি অবগত হয়ে সরেজমিন ব্রিজটি পরিদর্শন করি। সেখানে রডের পরিবর্তে বাঁশের ব্যবহার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছি। এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত কমিটি করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা