বৃহস্পতিবার | সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
প্রচ্ছদ জাতীয় মৎস্যসম্পদ সুরক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানি কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান

মৎস্যসম্পদ সুরক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানি কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার : মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন আইনপ্রণেতা, মৎস্য বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশকর্মীরা। মৎস্য অভয়াশ্রম ও প্রজননক্ষেত্রের সুরক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে মৎস্য খাতের বিভিন্ন পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন তারা। বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘মৎস্য সম্পদের সুরক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ শীর্ষক আলোচনায় এ সকল মতামত তুলে ধরেন তারা। ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ (Renewables Now) প্রচারাভিযানের আওতায় ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ডিআরডিএফ) এবং সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনসহ ৩৭টি নাগরিক ও সামাজিক সংগঠন আয়োজিত ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল। বিশেষ অতিথি ছিলেন বীথিকা বিনতে হোসাইন, এমপি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর সদস্য ইকবাল ফারুক এবং নির্ধারিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আনিসুর রহমান, বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মোস্তফা কামাল মজুমদার, সাবেক জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ।

ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর সদস্য ইকবাল ফারুক বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির কারণে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ছাই, গরম পানি ও দূষণ নদীতে গিয়ে মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকা ব্যাহত করছে; হেভি মেটাল মাছের শরীরেও জমছে। তাই মৎস্য সম্পদ সুরক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানি পরিত্যাগ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে যেতে হবে, কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ফেজ-আউট করে ব্যবহৃত জায়গায় সৌর বিদ্যুৎ স্থাপন করতে হবে।

ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (DRDF)-এর সভাপতি ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী তাঁর বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনায় বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত নির্ভরতা মৎস্য সম্পদের ওপরও ঝুঁকি তৈরি করছে। কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ফ্লাই অ্যাশ ও গরম পানি নদীদূষণ, অক্সিজেনের ঘাটতি ও মাছের ক্ষতি করছে। এ প্রেক্ষাপটে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর, কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র ফেজ-আউট এবং বিদ্যমান স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের আহ্বান জানানো হয়।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে জাতীয় বিদ্যুৎ চাহিদার অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ছাদের ওপর সোলার প্যানেল স্থাপন এবং সোলার ইরিগেশন বা সৌর সেচ কার্যক্রমকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের জন্য খাস জমি বরাদ্দ এবং ব্যাটারি স্টোরেজ উন্নয়নের কাজ চলছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, স্থানীয় সরকারগুলো কাজ শুরু করেছে। এ বিষয়ে মৎস্য খাতেও প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইন বলেন, শুধু নবায়নযোগ্য জ্বালানি নয়, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব কিভাবে মোকাবেলা করা যায়, তা নিয়ে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে এ সংক্রান্ত ৫ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে এ কাজে এগিয়ে আসতে হবে।

সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন – এর সমন্বয়ক, নিখিল চন্দ্র ভদ্র বলেন, আজকের আলোচনা শুধু মতবিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এখনই সম্মিলিত উদ্যোগে রূপ দিতে হবে। সরকার, বিশেষজ্ঞ, মৎস্যজীবী, নাগরিক সমাজ ও জনগণ—সবাইকে একসঙ্গে কাজ করে মৎস্যসম্পদ ও পরিবেশ সুরক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির পথে এগিয়ে যেতে হবে।

প্রবীণ সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মজুমদার বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করছি। এ বিষয়ে বর্তমান সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। সেই পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। প্রয়োজনে উন্নত দেশগুলোর ন্যায় সোলার এনার্জি কর্পোরেশন করার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট – এর সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ড. মো: আনিসুর রহমান বলেন, পানিতে তাপমাত্রা, দূষণ, দ্রবীভূত অক্সিজেন (ডিও), পিএইচসহ বিভিন্ন প্যারামিটারের সামান্য পরিবর্তনও শুধু ইলিশ নয়, অন্যান্য মাছেরও ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে। এতে বাস্তুতন্ত্র ও মাছের খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে যেতে পারে। তাই নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে সাহসী পদক্ষেপের পাশাপাশি ইতোমধ্যে উঠে আসা সুপারিশগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন জরুরি।

আলোচনায় বাংলাদেশের মৎস্যসম্পদ, জলজ প্রতিবেশ ও উপকূলীয় জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তরের জন্য সমন্বিত ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়।

এ যৌথ আয়োজনের ৩৭টি সদস্য সংস্থা হল – ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ (WKB), সেন্টার ফর অ্যাটমোসফেরিক পলিউশন স্টাডিজ (CAPS), ইয়ুথ অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (YASD), আপস ইয়ুথ অর্গানাইজেশন, ব্রাইটার্স, ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (YEDO), ওএবি ফাউন্ডেশন, রিভার বাংলা ,বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশন, তরঙ্গ ফাউন্ডেশন, ক্লাইমেট ফ্রন্টিয়ার(CF), ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (DRDF), বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন (BKF), রিভারাইন পিপল, এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভস (ERDA), সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন, সচেতন নাগরিক সমাজ সংগঠন, কোস্ট ফাউন্ডেশন, সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (CPRD), সেন্টার ফর রিনিউএবল এনার্জি সার্ভিসেস লিমিটেড (CRESL), আর্থস অ্যান্টস, কাসমাস অর্গানাইজেশন, বারসিক (BARCIK), হাওর অঞ্চলবাসী, স্বপ্নের সিঁড়ি সমাজকল্যাণ সংস্থা, মিশন গ্রিন বাংলাদেশ (MGB), ইকুইটি বিডি (EquityBD), সচেতন ফাউন্ডেশন, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য, গর্জন সমাজ কল্যাণ সংস্থা, বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (BSREA), রিভার সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট বাংলাদেশ, গ্রিনওয়ে রিনিউএবল এনার্জি ইমপ্লিমেন্টেশন অর্গানাইজেশন, ইউনিভো (UNIVO), ইউক্যান (YouCan), গ্রিনপিস ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা