রবিবার | সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ রতনের লোকজন ফোন করে ৫০ লাখ টাকা দাবীর অভিযোগ

ইটনায় জলমহাল দখলের চেষ্টার অভিযোগে মানববন্ধন :

রতনের লোকজন ফোন করে ৫০ লাখ টাকা দাবীর অভিযোগ

কিশোরগঞ্জ থেকে মোঃ মিজানুর রহমান : কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার পাঁচকাহনীয়া (ভূগলী) জলমহল জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা, ইজারাদারদের কাজে বাধা ও হুমকির অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন বৈধ ইজারাগ্রহীতা, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার বড়িবাড়ী ফেরিঘাট এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, জেলে ও এলাকাবাসীসহ শতাধিক মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকারি নিয়মে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকায় পাঁচকাহনীয়া জলমহল ইজারা নেওয়ার পরও তারা সেখানে মাছ আহরণ ও চাষাবাদ করতে পারছেন না।

তাদের অভিযোগ, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতনের লোকজন বিভিন্নভাবে বাধা দিচ্ছেন এবং ইজারাদারদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি ও হুমকি দিচ্ছেন।

বড়িবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মাখন বলেন, তারা সরকারি নিয়মে জলমহলটি ইজারা নিয়েছেন। কিন্তু বিভিন্ন বাধার কারণে সেখানে মাছ আহরণ করতে পারছেন না। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাচ্ছেন না বলে দাবি করেন তিনি। জলমহলে নির্বিঘ্নে মাছ আহরণের ব্যবস্থা করতে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান তিনি।

ইউনিয়ন বিএনপি নেতা সামিউল হাসান রাব্বী অভিযোগ করেন, জলমহল ইজারা পাওয়ার পর থেকে তাদের লোকজনকে বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি জেলেদের ভয়ভীতি দেখানো এবং একটি নৌকা ভাঙচুর করে মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। জলমহলে তাদের প্রায় অর্ধকোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে দাবি করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জলমহলের ইজারাগ্রহীতা মো. ফরহাদ অভিযোগ করেন, ইজারা পাওয়ার পর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতন তাকে ফোন করে ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে জলমহল থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি প্রশাসন ও পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন বলে জানান।

ফরহাদ আরও বলেন, জলমহলটি সরকারি নিয়মে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ইজারা নেওয়া হয়েছে। তিনি সংঘাত চান না উল্লেখ করে বৈধভাবে ইজারা পাওয়া জলমহলে শান্তিপূর্ণভাবে মাছ আহরণের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান।

ইটনা কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর শেখও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তার দাবি, জলমহলে পাহারায় থাকা লোকজনকে মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং তাদের একটি নৌকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জলমহল নিয়ে বিরোধের অবসান ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেওয়া এক জেলেও অভিযোগ করেন, তাকে জলমহলে জাল ফেলতে নিষেধ করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতন। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, জোর করে লোকজন দিয়ে ইজারাদারদের মারধর এবং নৌকা নিয়ে যাওয়ার যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা প্রমাণ করতে পারলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। অন্যথায় অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি।

রতন আরও বলেন, জলমহল নিয়ে যারা মানববন্ধন করেছেন, তাদের সংগঠন ও কমিটির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তিনি দাবি করেন, জলমহল-সংক্রান্ত বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতেই তিনি অবস্থান নিয়েছেন। তবে তিনি কোনো আইন বা আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নন বলেও জানান।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা