কক্সবাজার থেকে এইচ এন আলম : প্রচুর বৃষ্টিপাত ও স্থায়ী নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবে জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে কক্সবাজারের প্রাচীনতম বিদ্যাপীঠ ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের মাঠ ছাপিয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি প্রবেশ করায় পাঠদান কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
আজ বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির প্রধান ফটক থেকে শুরু করে পুরো প্রাঙ্গণ জলমগ্ন। জাতীয় পতাকা মঞ্চ, খেলার মাঠ, বারান্দা পেরিয়ে বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়েছে শ্রেণিকক্ষের ভেতরেও। বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ চলাচলের রাস্তাগুলোও সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে।
স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ঈদগাঁও নদী। নদীতে উজানি পানি বাড়লে এবং পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এছাড়া স্কুলের ড্রেনের মুখে স্লুইচগেট নির্মাণের একটি প্রকল্প দীর্ঘ এক দশক ধরে ঝুলে থাকায় বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই এই দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. আলমগীর জানায়, ‘ষষ্ঠ শ্রেণিতে ওঠার পর থেকেই দেখছি বৃষ্টির পানি স্কুল মাঠে ও ক্লাসে ঢুকে যায়। গতকাল সন্ধ্যার বৃষ্টির কারণে আজও ক্লাস করতে পারিনি। বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হয়েছে।’
অভিভাবক নাজমা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, ‘স্কুলের চারপাশ উঁচুতে হলেও বিদ্যালয়টি নিচু হওয়ায় প্রতি বছর এমন জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। আমার ছেলে স্কুলে গিয়ে ভেজা কাপড়ে বাড়ি ফিরেছে। এর একটি স্থায়ী সমাধান অত্যন্ত জরুরি।’
বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী শামসুল আলম জানান, শ্রেণিকক্ষে পৌঁছানোর আগেই শিক্ষার্থীরা ভিজে যায়। অনেক সময় পানিতে পড়ে তারা অসুস্থও হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক পাঠদান বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খুরশিদুল জান্নাত বলেন, ‘গত এক দশক ধরে সামান্য বৃষ্টিতেই স্কুলের মাঠে হাঁটুপানি জমে যায়। ড্রেনের মুখে স্লুইচগেট নির্মাণ প্রকল্পটি ঝুলে থাকায় আমরা চরম বিপাকে পড়েছি। বর্তমান পরিস্থিতিতে পাঠদান অব্যাহত রাখা আমাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’
