সোমবার | অক্টোবর ৫, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ কক্সবাজারে হচ্ছে শত কোটি টাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট, উৎপাদন হবে বিদ্যুৎ ও জৈব সার

কক্সবাজারে হচ্ছে শত কোটি টাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট, উৎপাদন হবে বিদ্যুৎ ও জৈব সার

কক্সবাজার থেকে মোঃ রিয়াজ উদ্দিন : (শহরের ৫ শতাধিক হোটেলসহ আশপাশের এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা থাকবে) দীর্ঘদিনের দাবির পর কক্সবাজারে নির্মাণ হতে যাচ্ছে বড় পরিসরের সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট। প্রায় শত কোটি টাকা ব্যয়ে শহরের আলীরজাহাল এলাকায় পৌরসভার প্রায় ২ দশমিক ২ একর জমিতে এ প্ল্যান্ট নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে এখানে জৈব সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্ল্যান্টটি চালু হলে কক্সবাজার শহরের দীর্ঘদিনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংকট অনেকটাই দূর হবে।

সম্প্রতি কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল কক্সবাজারে একটি প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্ল্যান্ট নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে। ইতোমধ্যে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর প্রকল্পটির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরির কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, কক্সবাজার শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুরবস্থা বিবেচনায় একটি বড় পরিসরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট নির্মাণের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দেন। চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত চিঠির অনুলিপি তাকেও দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর ও কক্সবাজার পৌরসভার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যৌথ বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে পৌরসভার মালিকানাধীন আলীরজাহাল এলাকার ২ দশমিক ২ একর জমি প্রকল্পের জন্য দেয়ার বিষয়ে সম্মতি পাওয়া গেছে। প্ল্যান্ট নির্মাণের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর বাস্তবায়ন করবে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নারুল্লাহ জানান, একটি সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট নির্মাণের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে ঢাকার সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর ভিত্তিতে পৌরসভার সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত প্ল্যান্টটি বড় পরিসরের হবে। এতে কক্সবাজার শহরের পাঁচ শতাধিক হোটেলসহ পুরো শহর এবং আশপাশের এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হবে। বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে এখানে জৈব সার উৎপাদনের পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। এতে বিপুল পরিমাণ জৈব সার এবং এক মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

কক্সবাজার পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পরাক্রম চাকমা জানান, বর্তমানে পুরো শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পৌরসভার ওপর। কিন্তু অপ্রতুল জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে যথাযথভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে শহরের প্রাণকেন্দ্র কস্তুরাঘাট এলাকায় খোলা জায়গায় বর্জ্য ফেলতে হচ্ছে। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে ময়লার বিশাল স্তূপ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, শহর থেকে দূরে রামুর চেইন্দায় বর্তমানে একটি ছোট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট রয়েছে। সেখানে মাত্র ২০টি হোটেলের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করতেই সক্ষমতা প্রায় পূর্ণ হয়ে যায়। নতুন প্রকল্পটি বড় পরিসরে বাস্তবায়ন করা হলে কক্সবাজার শহরের সব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হবে। এতে শহরবাসী দীর্ঘদিনের ময়লার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে।

শহরবাসীর অভিযোগ, বর্তমানে কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রতিনিয়ত ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। পৌরসভা যে বর্জ্য সংগ্রহ করে, তার একটি বড় অংশও শহরের ভেতরে জমা করা হয়। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শাহীন আবদুর রহমান বলেন, কস্তুরাঘাট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ময়লার পাহাড় শহরবাসীর স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সেখানে চিকিৎসা বর্জ্যসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে, যা বাতাসের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এসব দূষণ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আবদুর শুক্কুর সিআইপি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুরবস্থার কারণে কক্সবাজারে আসা পর্যটকরাও বিড়ম্বনায় পড়েন। অন্যদিকে কস্তুরাঘাটে জমে থাকা ময়লার পাহাড় থেকে ক্ষতিকর বর্জ্য সাগরে গিয়ে পড়ায় সামুদ্রিক পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। প্রস্তাবিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট বাস্তবায়ন হলে এসব সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে।

সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, সারাদেশে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগও চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজারে বড় পরিসরের এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, প্রকল্পটির কার্যক্রম দ্রুত শুরু হবে।
প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারন করা হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা, কক্সবাজারের আলিরজাহাল এলাকার প্রায় ২.২ একর জায়গার উপর এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। এ প্রকল্প থেকে জৈব সার উৎপাদনের পাশাপাশি প্রায় ১ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনেরও লক্ষ্যমাত্রা নির্দ্ধারন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা