# পূর্বাচল প্লট মালিকদের সুখবর ফার ০.৫ বৃদ্ধি করে গেজেট প্রকাশ
# বড় আয়তনের প্লটের মালিকরা পাবেন ফ্লোর এরিয়া রেশিওতে বিশেষ প্রণোদনা
# পূর্বাচলে বাড়ি নির্মাণে শর্তসাপেক্ষে এই বিশেষ প্রণোদনা দিয়েছে সরকার
স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পের প্লট মালিকদের জন্য সুখবর দিয়েছে সরকার। এসব প্রকল্পে পাঁচ কাঠা বা তার চেয়ে বড় আয়তনের প্লটের মালিকরা ভবনের নকশা অনুমোদনের আবেদন করলে ফার বা ফ্লোর এরিয়া রেশিওতে বিশেষ প্রণোদনা পাবেন। গতকাল রোববার দুপুরে উত্তরাস্থ রাজউকের জোন২/৩ এর অথরাইজ অফিসার মেহেদী রায়হান নাদিম এসব কথা বলেন।
গত ১২ অক্টোবর বুধবার গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখা-২ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এতে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব লুৎফুন নাহার নাজীম। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রজ্ঞাপন জারির পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে ভবনের নকশা জমা দিলে ভিত্তি ফারের সঙ্গে সর্বোচ্চ ০.৫ ফার যুক্ত হবে। একই গেজেটে আরও দুটি বিষয়ে সংশোধন আনা হয়েছে। এর একটি আইলবহর মৌজার নির্দিষ্ট জমির প্রস্তাবিত ভূমি ব্যবহার ‘ওপেন স্পেস’ থেকে শর্তসাপেক্ষে ‘ভারী শিল্প এলাকা’ করা। অন্যটি জলস্রোত ওভারলে জোনে স্থাপনা নির্মাণের অনুমোদনসংক্রান্ত নির্দেশনা পরিবর্তন। প্রণোদনাপ্রাপ্ত প্লটে চূড়ান্ত নির্মাণ অনুমোদনপত্র পাওয়ার এক বছরের মধ্যে প্লিন্থ লেভেল বা ভবনের ভিটি পর্যন্ত নির্মাণকাজ শেষ করতে হবে। তা না হলে নকশা অনুমোদনের জন্য দেওয়া ফির ২০ গুণ জরিমানা কর্তৃপক্ষকে দিতে হবে। ঢাকা মহানগর এলাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (২০২২-২০৩৫) সংশোধন করে এ বিধান যুক্ত করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

বাড়তি নির্মাণ সুবিধার সঙ্গে সময়সীমা : ড্যাপের ৩.৬.৪.১ অনুচ্ছেদের আওতায় প্রণোদনা ফারসংক্রান্ত সারণি ৩.২৮-এ নতুন ক্রমিক ১০ যুক্ত করা হয়েছে। এতে পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পের জন্য বিশেষ প্রণোদনা রাখা হয়েছে। প্রণোদনা ভিত্তি ফারের সঙ্গে যুক্ত হবে। নতুন বিশেষ প্রণোদনা পাঁচ কাঠা বা তার বেশি আয়তনের আবাসিক প্লটের জন্য প্রযোজ্য। কাজ শেষ করতে হবে প্লিন্থ লেভেল পর্যন্ত। এই শর্ত পূরণ না হলে নকশা অনুমোদনের জন্য দেওয়া ফির ২০ গুণ জরিমানা দিতে হবে।
নির্দিষ্ট জমিতে ভারী শিল্পের সুযোগ : আইলবহর মৌজার মহানগর জরিপের ১০৪৭, ১০৪৮ ও ১০৫০ নম্বর দাগের জমি ড্যাপে প্রস্তাবিত ‘ওপেন স্পেস’ থেকে শর্তসাপেক্ষে ‘ভারী শিল্প এলাকা’ হিসাবে পরিবর্তনের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। জমি বুড়িগঙ্গা নদীর ফোরশোর বা তীরভূমিসংলগ্ন হওয়ায় অভ্যন্তরীণ জলপথ ও তীরভূমিতে স্থাপনা নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০১০ অনুযায়ী বিআইডব্লিউটিএর ছাড়পত্র নিতে হবে। সিটি জরিপ রেকর্ডের পর্চায় জমির ‘হালট’ শ্রেণি সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত তা সংরক্ষণ করতে হবে।
জলস্রোত ওভারলে জোনের নির্দেশনায় পরিবর্তন : ড্যাপের ৭.৫.৮(খ) অনুচ্ছেদেও সংশোধন আনা হয়েছে। আগের নির্দেশনায় অনুমোদনযোগ্য ভূমি ব্যবহার ও জলস্রোত ওভারলে জোনের নির্দেশনায় অমিল থাকলে সিএস, আরএস ও মহানগর জরিপের যে কোনো দুটি রেকর্ডে জমি ভিটি, বাড়ি বা অকৃষি হিসাবে উল্লেখ থাকার শর্ত ছিল। নতুন নির্দেশনায় সেই শর্তের পরিবর্তে প্রস্তাবিত ভূমি ব্যবহার এবং অনুমোদিত আবাসিক প্রকল্পের লেআউটের নির্দেশনা অনুসরণের বিধান দেওয়া হয়েছে। তবে পর্চায় খাল, ক্যানেল, পুকুর, রাস্তা বা চলার পথ, জলাশয় ইত্যাদি হিসাবে উল্লেখ থাকা সরকারি খাস বা ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি এ ব্যবস্থার বাইরে রাখা হয়েছে।
সূত্র জানায়, ঢাকার ওপর জনসংখ্যার চাপ কমাতে রাজউক ১৯৯৫ সালে প্রকল্পটি হাতে নেয়। দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই আবাসন প্রকল্প নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৬,২২৭ একর জমির ওপর বিস্তৃত। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ৩১ বছরেও এই মেগা প্রজেক্ট আজও পুরোপুরি বসবাসের উপযোগী হয়ে ওঠেনি।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-২/৩ এর অথরাইজড অফিসার মেহেদী রায়হান নাদিম জানান, গেজেট জারির ছয় মাসের মধ্যে ভবনের প্ল্যান জমা দিলে পাঁচ কাঠা বা তদূর্ধ্ব প্লটের মালিকরা এই প্রণোদনা পাবেন। বিষয়টির ব্যাখ্যায় তিনি জানান, পাঁচ কাঠা জমিতে সাধারণত প্রায় ৩,৬০০ বর্গফুট ক্ষেত্রফল পাওয়া যায়। এই ০.৫ প্রণোদনা পাওয়ার ফলে পাঁচ কাঠার একজন মালিক ভবনে অতিরিক্ত প্রায় ১,৮০০ বর্গফুট বাড়তি জায়গায় নির্মাণের সুযোগ পাবেন। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে এই এলাকাগুলোকে দ্রুত জনবসতিপূর্ণ ও বাসযোগ্য করে তোলা।
