বুধবার | অক্টোবর ২১, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশঢাকা সাভারে অস্ত্রোপচারের আগে অ্যানেসথেশিয়া, প্রাণ গেল ৯ বছরের শিশুর

সাভারে অস্ত্রোপচারের আগে অ্যানেসথেশিয়া, প্রাণ গেল ৯ বছরের শিশুর

সাভার থেকে, ফাহাদ-ই-আজমঃ সাভারে নাকের পলিপাস অস্ত্রোপচার করাতে গিয়ে ৯ বছরের শিশু আবরাহামের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ, হাসপাতালের লাইসেন্স ও চিকিৎসকদের যোগ্যতা যাচাইয়ের দাবি সাভার-আশুলিয়ার বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবায় তদারকি নিয়ে প্রশ্ন ?

বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার রাজাবাড়ী এলাকার আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতাল লিমিটেডে এ ঘটনা ঘটে। অস্ত্রোপচারের আগে শিশুটিকে অ্যানেসথেশিয়া (অবেদন) দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে তার পরিবার। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সাভারে অস্ত্রোপচারের আগে অ্যানেসথেশিয়া, প্রাণ গেল ৯ বছরের শিশুর

শিশুটির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন স্বজনেরা। তাঁদের প্রশ্ন, নাকের পলিপাসের মতো সমস্যায় অস্ত্রোপচার করাতে এসে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি কেন হলো, অ্যানেসথেশিয়া প্রয়োগের সময় কী ধরনের জটিলতা দেখা দিয়েছিল এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না। একই সঙ্গে হাসপাতালের লাইসেন্স, অস্ত্রোপচারকক্ষের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা যাচাইয়ের দাবি উঠেছে। এ ঘটনা সাভার-আশুলিয়ার বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে অ্যানেসথেশিয়া সেবার মান, চিকিৎসকদের যোগ্যতা এবং স্বাস্থ্য বিভাগের তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন সামনে এনেছে। এর আগে এ অঞ্চলে অ্যানেসথেশিয়ায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকের স্বল্পতা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসকদের যোগ্যতা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য না থাকার বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল। তবে আবরাহামের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। চিকিৎসায় অবহেলা বা পেশাগত দায়িত্বে কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

অস্ত্রোপচারের জন্য হাসপাতালে, পরে মৃত্যু

নিহত আবরাহাম মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানার রাজনগর নোয়াদ্দা এলাকায় মায়ের সঙ্গে বসবাস করত। তার বাবা আল আমিন দুবাইপ্রবাসী।

শিশুটির মামা মো. রুবেল জানান,

বুধবার সকালে নাকের পলিপাস অস্ত্রোপচারের জন্য আবরাহামকে আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে আসার সময় শিশুটি নিজে হেঁটে এসেছিল এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলছিল। তার বড় কোনো শারীরিক জটিলতা ছিল বলে তাঁরা জানতেন না। রুবেলের অভিযোগ, শিশুটিকে অস্ত্রোপচারকক্ষে নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে স্বজনদের স্পষ্ট কোনো তথ্য দেননি। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শিশুটির চাচা আমিনুর রহমানের দাবি,

হাসপাতালের অ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত ডা. শাহীন শিশুটিকে অজ্ঞান করেন। এরপর ডা. সুমন হোসাইন অস্ত্রোপচারের জন্য তাকে নেন। দীর্ঘ সময় শিশুটির কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে তাঁরা জানতে পারেন, অস্ত্রোপচারকক্ষেই শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছিল।

স্বজনদের অভিযোগ,

অ্যানেসথেশিয়া প্রয়োগে জটিলতা অথবা চিকিৎসায় অবহেলার কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বক্তব্য, চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিপত্র এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা জরুরি।

হাসপাতাল ভাঙচুর, ঘটনাস্থলে পুলিশ

শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালে স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ স্বজনেরা লাঠিসোঁটা নিয়ে হাসপাতালের অভ্যর্থনাকক্ষসহ কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সন্তান হারিয়ে শিশুটির মা ও পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বক্তব্য

সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন বলেন, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে শিশুমৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে একটি দল পাঠিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ক্যানুলা প্রবেশের সময় সমস্যা

আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালের মালিক ডা. আব্বাস উদ্দিনের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাঁকে খুদেবার্তাও পাঠানো হয়। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা

হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা পরিচয়ে মজিবুর রহমান জানান, ডা. শাহীন শিশুটিকে অ্যানেসথেশিয়া দেওয়ার পর নাক দিয়ে ক্যানুলা প্রবেশ করানোর সময় সমস্যা হয়। পরিস্থিতির অবনতি হলে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা শিশুটিকে দ্রুত এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে ক্যানুলা প্রবেশ করানোর সময় ঠিক কী ধরনের জটিলতা হয়েছিল, অ্যানেসথেশিয়া দেওয়ার পর শিশুটির শ্বাস-প্রশ্বাস ও অন্যান্য শারীরিক কার্যক্রম কী অবস্থায় ছিল এবং তাকে কী ধরনের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল—এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে হাসপাতালের চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।

উল্লিখিত দৈনিক জনতার আগের প্রতিবেদনে অ্যানেসথেশিয়ায় প্রশিক্ষিত চিকিৎসক মাত্র ১২ জন

সাভার-আশুলিয়ার বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে অ্যানেসথেশিয়া সেবা কারা দিচ্ছেন এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও স্বীকৃত যোগ্যতা রয়েছে কি না, তা নিয়ে আগেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা।
এর আগে এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অ্যানেসথেশিয়া) ও সাভার উপজেলা অ্যানেসথেশিয়া কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. নাজমুল হুদা মিঠু জানিয়েছিলেন, সাভার উপজেলায় অ্যানেসথেশিয়ায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র ১২ জন। অথচ এলাকার বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের অস্ত্রোপচারকক্ষে কারা অ্যানেসথেশিয়া সেবা দিচ্ছেন, সে বিষয়ে তাঁর কাছে পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই।

ডা. নাজমুল হুদা মিঠুর বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু এমবিবিএস ডিগ্রি থাকলেই কেউ অ্যানেসথেশিয়ার বিশেষজ্ঞ হয়ে যান না। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও স্বীকৃত উচ্চতর যোগ্যতা থাকা জরুরি। অ্যানেসথেশিয়া দেওয়ার সময় রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস, হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যক্রম ও সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে হয়। অস্ত্রোপচারের সময় বা পরে জটিলতা দেখা দিলে তা মোকাবিলার দক্ষতাও প্রয়োজন। তবে সাভারে অ্যানেসথেশিয়ায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকের সংখ্যা ১২ জন—এই তথ্যের বর্তমান অবস্থা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে হালনাগাদ করে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে অ্যানেসথেশিয়া সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের পরিচয়, প্রশিক্ষণ, স্বীকৃত যোগ্যতা ও দায়িত্ব পালনের তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

সুপার ক্লিনিকে অ্যানেসথেশিয়া প্রয়োগ নিয়ে অভিযোগ

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, সাভার সুপার ক্লিনিক হাসপাতালেও অস্ত্রোপচারের সময় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অ্যানেসথেশিয়া প্রয়োগ করেন এমবিবিএস চিকিৎসক ডা. রফিক। তাঁর দাবি, ডা. রফিক অ্যানেসথেশিয়ায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নন। ওই কর্মচারীর আরও অভিযোগ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির আশ্রয়-প্রশ্রয় এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে তিনি সেখানে কাজ করছেন। তবে ডা. রফিকের প্রশিক্ষণ, স্বীকৃত যোগ্যতা ও পেশাগত দায়িত্বের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নথিপত্র থেকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সাভার সুপার ক্লিনিক হাসপাতালের রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসার

সাভার সুপার ক্লিনিক হাসপাতালের রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসার ডা. লুতফুর রহমান এর আগে জানিয়েছিলেন, তাঁদের হাসপাতালে অ্যানেসথেশিয়া বিভাগে পাঁচজন রয়েছেন। তবে তাঁদের প্রত্যেকের প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানাতে পারেননি। এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি। ডা. রফিকের প্রশিক্ষণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ডা. লুতফুর রহমান বলেছিলেন, তাঁকে অ্যানেসথেশিয়ার প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য হাসপাতাল থেকে সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন কি না, তা হাসপাতালের পরিচালকের কাছ থেকে জানতে হবে।

ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ, নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন

সাভার নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. সালাহউদ্দিন খান নঈম বলেন,বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সাভারের কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসায় অবহেলা বা ভুল চিকিৎসার অভিযোগে রোগীর মৃত্যুর

তালিকার শীর্ষে আছেন তাঁর উল্লেখ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে সাভার সেন্টার ক্লিনিক হাসপাতাল, সাভার সুপার ক্লিনিক হাসপাতাল, সাভার সেবা ক্লিনিক হাসপাতাল, সাভার রোজিয়া রেজিয়া ক্লিনিক হাসপাতাল এবং সাভারের গেন্ডা এলাকার ল্যাবস্টার ক্লিনিক হাসপাতাল।

সালাহউদ্দিন খান নঈমের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো কোনোটি অতীতে প্রশাসনিক অভিযানের মুখে পড়লেও পরবর্তী সময়ে আবার কার্যক্রম চালিয়েছে। তাঁর দাবি, প্রশাসনিক নজরদারি থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং এতে রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। তবে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অতীতে কী ধরনের অভিযান পরিচালিত হয়েছিল, সেগুলোর বর্তমান লাইসেন্সের অবস্থা কী এবং কোনো ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল কি না—এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য বিভাগের তদারকি কতটা কার্যকর

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফজলে বারী এর আগে অ্যানেসথেশিয়া প্রয়োগের যোগ্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেছিলেন, এমবিবিএস চিকিৎসক উচ্চতর প্রশিক্ষণ থাকলে রোগীকে অজ্ঞান করতে পারবেন। আবরাহামের মৃত্যুর ঘটনায় তিনি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন। তবে শিশুটির স্বজনেরা লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। তবে আবরাহামের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল পরিদর্শন, চিকিৎসকদের যোগ্যতা যাচাই কিংবা আনুষ্ঠানিক তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য,

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, এ ঘটনায় শুধু একটি হাসপাতালের কার্যক্রম নয়, সাভার-আশুলিয়ার বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর সামগ্রিক তদারকির বিষয়টিও সামনে এসেছে। হাসপাতালের বর্তমান লাইসেন্স, অস্ত্রোপচারকক্ষ পরিচালনার অনুমোদন, অ্যানেসথেশিয়া সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের যোগ্যতা, প্রশিক্ষিত জনবল এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা যাচাই করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধন

চিকিৎসকদের বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধন এবং প্রাসঙ্গিক উচ্চতর যোগ্যতার নথি পরীক্ষা করার পাশাপাশি অস্ত্রোপচার-পূর্ব স্বাস্থ্যপরীক্ষা, রোগীর সম্মতিপত্র, অ্যানেসথেশিয়া-সংক্রান্ত নথি ও অস্ত্রোপচারকক্ষের পর্যবেক্ষণ-ব্যবস্থাও পর্যালোচনা করা দরকার।

মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

আবরাহামের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে অস্ত্রোপচার-পূর্ব স্বাস্থ্যপরীক্ষা, অ্যানেসথেশিয়া প্রয়োগের বিবরণ, অস্ত্রোপচারকক্ষের পর্যবেক্ষণ-সংক্রান্ত নথি এবং জরুরি চিকিৎসার তথ্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন। প্রয়োজন অনুযায়ী ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতামতও বিবেচনায় নিতে হবে। অস্ত্রোপচারে যুক্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নেওয়া পদক্ষেপও তদন্তের আওতায় আনা জরুরি।

সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগ,

সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও প্রশাসনের সমন্বয়ে সাভার-আশুলিয়ার বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর লাইসেন্স, চিকিৎসকদের যোগ্যতা, অ্যানেসথেশিয়া সেবায় নিয়োজিত জনবল এবং রোগীর নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাইয়ের দাবি উঠেছে। একটি শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ এবং দায়িত্বে অবহেলা বা বিধিবিধান লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পরিদর্শন, কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা