পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার দক্ষিণ ভূর্ষি ইউনিয়নের শারদীয় দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে দক্ষিণ ভূর্ষি ইউনিয়ন থেকে বিএনপি’র সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কাসেম।
১৯ ও ২০ অক্টোবর স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে তিনি বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শারদীয় শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন এবং বিভিন্ন মণ্ডপ কর্তৃপক্ষের হাতে আর্থিক অনুদান ও উপহার সামগ্রী তুলে দেন। শান্তি শৃঙ্খলা পরিবেশে শারদীয় দুর্গা উৎসব সম্পন্ন হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি ইউনিয়নের দুর্গাবাড়ি, গীতা আশ্রম মণ্ডপ, ডেঙ্গাপাড়া শীতলা মায়ের মন্দির, সবুজ সংঘ পূজা মণ্ডপ, কেচিয়াপাড়া সার্বজনীন পূজা মণ্ডপ, অনুকূল চন্দ্র আশ্রম ও মন্দির, খানমোহনা সার্বজনীন পূজা মণ্ডপ, সূচনা মণ্ডপ এবং পূর্ব ডেঙ্গাপাড়া সার্বজনীন মণ্ডপসহ বেশ কয়েকটি পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন।
মণ্ডপ পরিদর্শনকালে উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বী ও এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে আবেগঘন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ বক্তব্যে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কাসেম বলেন, “আমরা একই মাটির সন্তান। সম্প্রীতি আর সৌহার্দ্য আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর অভিভাবক ও আমাদের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক জননেতা তারেক রহমানের সুষ্পষ্ট নির্দেশ—এ দেশে কোনো ধর্মীয় সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু বলতে কিছু নেই, আমাদের একটাই পরিচয় আমরা সবাই বাংলাদেশি। ধর্ম যার যার, কিন্তু উৎসবের আনন্দ আর সম্প্রীতির এই আঙিনা আমাদের সবার। আপনাদের এই আনন্দ উৎসবে শামিল হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও আপ্লুত।তিনি আরও বলেন, অতীতে যেমন আপনাদের যেকোনো সুখে-দুঃখে, আপদে-বিপদে ভাইয়ের মতো পাশে ছিলাম; বর্তমানেও আছি এবং আগামী দিনেও আপনাদের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় নিজেকে উৎসর্গ করে যাব। একটি বৈষম্যহীন, নিরাপদ ও শান্তিময় দক্ষিণ ভূর্ষি ইউনিয়ন গড়ে তোলাই আমার প্রধান লক্ষ্য, যেখানে প্রতিটি নাগরিক বুক ফুলিয়ে নিজের ধর্মীয় উৎসব পালন করবেন এবং সমঅধিকার ভোগ করবেন।
এলাকার উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, বিগত ১৭টি বছর আমাদের এই ইউনিয়ন কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এমনকি জনগণের সেবা পাওয়ার প্রধান কেন্দ্র, ইউনিয়ন পরিষদেরও কোনো স্থায়ী ও সুব্যবস্থিত রূপ নেই। আজ আপনাদের এই পবিত্র মণ্ডপ প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি আগামী নির্বাচনে আপনারা যদি আমাকে সেবার সুযোগ দেন, তবে ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব স্থায়ী ভবনের জন্য আমি আমার ব্যক্তিগত জায়গা দান করব। একটি আধুনিক, দুর্নীতিমুক্ত ও মডেল ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করে তা আপনাদের চরণে উৎসর্গ করব। আসুন, হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে আমরা সবাই মিলে একটি সুন্দর ও বৈষম্যহীন দক্ষিণ ভূর্ষি গড়ে তুলি। মণ্ডপ পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা শাহ আলম, সমাজ সেবক সরকারি কর্মকর্তা আবুল কালাম, ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মোহাম্মদ সেলিম উদ্দীন, যুবদল নেতা জাগির হোসেন সহ স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল এবং অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
