শনিবার | অক্টোবর ৩১, ২০২৬
প্রচ্ছদ শিক্ষা চট্টগ্রাম বোর্ডে এইচএসসিতে পাশের হার গত বছরের থেকে কম

জিপিএ-৫ কমেছে অর্ধেকেরও বেশি :

চট্টগ্রাম বোর্ডে এইচএসসিতে পাশের হার গত বছরের থেকে কম

রকসী সিকদার চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৫২.০৭ শতাংশ। গত বছর এই হার ছিল ৫২.৫৭ শতাংশ। এবার বোর্ডে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমেছে অর্ধেকের বেশি।

আজ শনিবার (৩১শে অক্টোবর) বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফলের পরিসংখ্যানে জানা যায়, চলতি বছর চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীনে ২৮৩ টি কলেজ, ১১৪টি কেন্দ্রে মোট ৯৯ হাজার ৮৭৯ জন পরীক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল। যার মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নে ৯৬ হাজার ৩৫৫ জন।অনুপস্থিত
৩ হাজার ৫৪৪ জন এবং বহিষ্কৃত হয় ২৭ জন।

গতবারে ৬ হাজার ৯৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেলেও এই বছর জিপিএ-৫ পেল,২ হাজার ৯২৯ জন শিক্ষার্থী। যা গতবারের চেয়ে অর্ধেক অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ কমেছে ৩ হাজার ১৬৮ জন।

শতভাগ পাশ করেছে এমন কলেজ ৬টি হলেও
৩টি কলেজে একজন শিক্ষার্থীও পাশ করেনি,শূন্য পাশ কলেজের সংখ্যা গত বছর ছিল ৫টি। আর শতভাগ পাশ করা কলেজের সংখ্যা গতবার ছিলো ৮ টি এবং ১৫৫টি কলেজের পাশের হার ২০ থেকে ৫০ শতাংশের মধ্যে।

এবছর বিভাগভিত্তিক ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগে পাশের হার সবচেয়ে বেশি ৭৪.৪২ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫২.১৪ শতাংশ এবং মানবিক বিভাগে সবচেয়ে কম ৩৮.৩৭ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষায় পাশের হার কমলেও মানবিকে সামান্য বেড়েছে।

বরাবরের মতো এবারও ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা ভালো ফল করেছে। ছাত্র পাশের হার ৪৭.৬২ শতাংশ এবং ছাত্রী পাশের হার ৫৩.৪৯ শতাংশ।

জেলাভিত্তিক ফলাফল একসাথে করে দেখা যায়,
চট্টগ্রাম মহানগরে পাশের হার ৬৮.২০ শতাংশ, যা সব জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে পার্বত্য তিন জেলায় ফলাফল অত্যন্ত হতাশাজনক।খাগড়াছড়ি জেলা, ২৯.৮৫%,রাঙ্গামাটি জেলা – ৩৩.২৪%, বান্দরবান জেলা – ৪১.৪২%,কক্সবাজার জেলা – ৪৩.৩৪%

এবিষয়ে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে গত বছরের চেয়ে পাশের হার খুব বেশি কমেনি, তবে আমাদের আশানুরূপ ফল হয়নি। বর্তমানে ছাত্রছাত্রীরা ঠিকমতো ক্লাস করতে চাই না,লেখাপড়ায়ও আগের মত মনোযোগী নেই।যার জন্য তাদের ফলাফল ভালো হচ্ছে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে স্কুল কলেজ গুলো নিয়মিত পরিদর্শন করি। শিক্ষার মান উন্নয়নের ব্যাপারে শিক্ষকদেরকে নির্দেশনা দিচ্ছি।অভিভাবকদের আরও যত্নশীল ও সচেতন হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি।

এবার জিপিএ-৫ গতবারের চেয়ে অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে; এটি অত্যন্ত উদ্বেগ জনক। সবচেয়ে বড় কথা ৯৫% জিপিএ-৫ চট্টগ্রাম শহরেই পেয়েছে, শহরের বাহিরে এবং অন্যান্য জেলাগুলোতে সব মিলিয়ে মাত্র ৫% পেয়েছে। শহরের বাইরে মফস্বলে অনেক মেধাবী ছাত্র ছাত্রী আছে। তারপরেও এ ধরনের রেজাল্ট কেন হল এটা অনুসন্ধানের দাবি রাখে।

এবিষয়ে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরীর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় এবারের ফলাফল খুব বেশি কমেনি। বিশেষ করে চট্টগ্রাম শহরের ফলাফল গতবছরের তুলনায় ভালো হয়েছে তবে শহরের বাহিরে ফলাফল ভালো হয়নি। বিশেষ করে পার্বত্য তিন জেলার ফলাফল অত্যন্ত খারাপ। যার কারণে গড় ফলাফলের উপর প্রভাব পড়েছে।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা