বৃহস্পতিবার | সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
প্রচ্ছদ মতামত ১০ আগস্টের মধ্যে অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার ছিল

১০ আগস্টের মধ্যে অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার ছিল

রাজনীতিতে এনসিপির অবস্থান ও অন্তর্বর্তী সরকারের সুবিধা ভোগ, বিএনপির সঙ্গে দূরত্ব, জামায়াতের সঙ্গে জোট, নির্বাচনের অভিজ্ঞতা, অভ্যুত্থান-উত্তর রাজনীতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এনসিপি নেতা সারজিস আলম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক আমজাদ হোসেন হৃদয়।

আগামীর সময় : ৫ আগস্টের যে স্বপ্ন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা— সেটি কি পূরণ হয়েছে বলে মনে করেন?

সারজিস আলম: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ছিল সম্পূর্ণ সৎ ও বিশুদ্ধ একটি আকাঙ্ক্ষা। এটি ছিল মানুষের ব্যক্তিগত স্বপ্ন ও ক্ষোভের সামষ্টিক বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু ৫ আগস্টের পর আমরা যে বাংলাদেশ দেখতে চেয়েছিলাম, বাস্তবে তার অনেক কিছুই পূরণ হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের অনেকেই অভিজ্ঞতার অভাবে প্রত্যাশা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের অনুগত মানুষদের বিভিন্ন জায়গায় বসানোর চেষ্টা করেছে। সেখানে যোগ্যতার চেয়ে দলীয় আনুগত্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির প্রভাবও তুলনামূলক বেশি ছিল। সামগ্রিকভাবে সবাই কোনো না কোনোভাবে এ ব্যর্থতার দায় এড়াতে পারেন না।

আগামীর সময়: তাহলে কি আপনি আশাহত?

সারজিস আলম: দীর্ঘদিনের ক্ষমতাকেন্দ্রিক সংস্কৃতি এখনো রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরে রয়ে গেছে। এ কারণে কিছুটা আশাহত। কারণ, আমরা দ্রুত পরিবর্তন চেয়েছিলাম। কিন্তু এখন মনে হয়, এ পরিবর্তন এক-দুই বছরে হবে না। হয়তো আট-দশ বছর সময় লাগবে। তবে একটা বড় পরিবর্তন হয়েছে মানুষের মনস্তত্ত্বে। তরুণ প্রজন্ম এখন রাজনৈতিকভাবে অনেক বেশি সচেতন। আগে বাংলাদেশের রাজনীতি দুই দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এখন অন্তত তিনটি বড় রাজনৈতিক শক্তি তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো দলই সহজে স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে পারবে না।

আগামীর সময়: ৯০ ও ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পরও দেশ গঠনের সুযোগ এসেছিল। কিন্তু আপনার কি মনে হয় সেই সুযোগে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের চেয়ে ক্ষমতা ও সুবিধা ভোগের প্রবণতাই বেশি দেখা গেছে?

সারজিস আলম: ১৯৯০ সালে বাংলাদেশে একটি গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, এর ৩৪ বছর পর ২০২৪ সালে আবারও বড় একটি গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। আমি মনে করি, স্বাধীনতার পর ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানই সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ঘটনা। মানুষ যখন দীর্ঘদিন অন্যায়-অবিচারের মধ্যে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পরিস্থিতিতে পড়ে, তখন তারা ঘুরে দাঁড়ায়— এটাই ইতিহাসের বাস্তবতা। তবে আমি মনে করি না ২০২৪-এর আন্দোলন ব্যর্থ হয়েছে। এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে পড়বে।

২৪-এর পর যে পরিবর্তনের সুযোগ এসেছিল, সেখানে আমরা সবাই কোনো না কোনোভাবে প্রত্যাশা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে পারিনি। অনেকেই পরিবর্তনের শিক্ষা নেওয়ার চেয়ে ক্ষমতার বাস্তবতা ও সুবিধার জায়গায় বেশি জড়িয়ে পড়েছে। তবে একই সঙ্গে এটাও সত্য, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এখন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে বড় পরিবর্তন হয়তো আর রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে হবে না, বরং গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই হবে। কিন্তু যদি আবারও পুরনো কর্তৃত্ববাদী বা ফ্যাসিবাদী রাজনীতির পুনরাবৃত্তি হয়, তাহলে মানুষ অবশ্যই প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। সেটাকে তখন গণঅভ্যুত্থান বলা হবে নাকি অন্য কিছু, সেটা সময়ই নির্ধারণ করবে।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা