শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
প্রচ্ছদ মতামত বিদ্যুৎ-জ্বালানিতে কোনো গোপন চুক্তি নয়

বিদ্যুৎ-জ্বালানিতে কোনো গোপন চুক্তি নয়

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে ব্যয় বৃদ্ধি, ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি, খেলাপি ঋণের চাপসহ নানা অনিশ্চয়তায় আগামী অর্থবছরের বাজেট করছে সরকার। এমন প্রতিকূলতায়ও উচ্চাভিলাষী ব্যয়ের পথে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে কোনো গোপন চুক্তি করা হবে না। সম্প্রতি সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে আগামীর সময়ের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বিজনেস এডিটর মিজান চৌধুরী

আগামীর সময়: দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আপনি কীভাবে দেখছেন?

অর্থমন্ত্রী: আগের (আওয়ামী লীগ) সরকারের রেখে যাওয়া এমন একটি অর্থনীতি আমরা পেয়েছি, যেখানে দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা জমে আছে। এর ওপর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নতুন চাপ তৈরি করেছে। ফলে আমরা একটি অত্যন্ত কঠিন অর্থনৈতিক সময় অতিক্রম করছি। সামনে অন্তত আরও দুই বছর কঠিন সময় যেতে পারে। এ অবস্থা থেকে বের হতে কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে, যেগুলো হয়তো সবসময় জনপ্রিয় হবে না। কিন্তু এরপরও সেগুলো মেনে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। বর্তমানে দেশের খেলাপি ঋণের অঙ্ক ৩০ শতাংশেরও বেশি। কোনো অর্থনীতিতে যখন খেলাপি ঋণ এভাবে বেড়ে যায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই অর্থনৈতিক গতি কমে আসে। ২০০৫ সালে খেলাপি ঋণের হার ছিল প্রায় ১৩ শতাংশ।

আগামীর সময়: এমন পরিস্থিতিতে কেন বড় বাজেট দিতে যাচ্ছেন?

অর্থমন্ত্রী: অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করতে হলে বিনিয়োগ ও ব্যয় বাড়াতে হবে। অর্থনীতি এখন যে অবস্থায় আছে, সেখান থেকে ওপরের দিকে তুলতে না পারলে স্থবিরতা আরও বাড়বে। বড় বাজেট ছাড়া দারিদ্র্য বিমোচন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান তৈরি সম্ভব নয়। উন্নয়ন ব্যয় কমিয়ে দিলে জিডিপি প্রবৃদ্ধিও কমে যাবে।

আগামীর সময়: কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো নিয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ আছে। সরকার কীভাবে বিষয়টি দেখছে?

অর্থমন্ত্রী: কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় এটি খুব সহজ নয়। ব্যবসায়ীরা এমনিতেই কঠিন সময় পার করছেন। তবে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ এবং অভ্যন্তরীণ বাজার শক্তিশালীকরণ করব। এতে উৎপাদন, কর্মসংস্থান, আয় ও ভোগ বাড়বে। সেই সম্প্রসারিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকেই কর রাজস্ব টেকসইভাবে বাড়বে। একই সঙ্গে কর ছাড় ও প্রণোদনাকে বাস্তব বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তি উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করে রাজস্ব ক্ষয়রোধের উদ্যোগে নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সম্পত্তি ও সম্পদমূল্য যে বাড়ছে, সেটি আধুনিক সম্পত্তি করের আওতায় আনা হবে। উৎপাদন ও বিনিয়োগ থেকে সৃষ্ট সম্পদও রাষ্ট্রীয় আয়ে প্রতিফলিত করা হবে। এ ছাড়া আসন্ন বাজেটে ডিজিটাল লেনদেন, ব্যাংক হিসাব ও সম্পত্তির তথ্য ব্যবহার করে উচ্চ আয়ের ব্যক্তি ও ব্যবসাকে করের আওতায় আনা হবে, যাতে বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধির সুফল রাষ্ট্রীয় কোষাগারে প্রতিফলিত হয়।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা