খোরশেদ আলম সীমান্তঃ কৈশোরের সোনালী দিনগুলো পেছনে ফেলে আসা দীর্ঘ ৩০টি বছর। সময়ের চাকায় অনেকের চুলে হয়তো পাক ধরেছে, বদলেছে বাহ্যিক অবয়ব—কিন্তু বদলায়নি ভেতরের সেই চিরযৌবনা বন্ধুত্ব। ঠিক এই আবেগ আর স্মৃতির কোলাজ নিয়েই গত ১৯ জুন (শুক্রবার) রাজধানীর বাড্ডার ‘ফর্টিস ডাউনটাউন রিসোর্টে’ বসেছিল এক অনন্য মিলনমেলা। অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের প্রস্তুতিতে ‘ঢাকা কলেজ এলামনাই এসোসিয়েশন এইচএসসি ’৯৬’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই ‘সামার ফেস্ট-২০২৬’ যেন রূপ নিয়েছিল এক টুকরো ঢাকা কলেজে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসা শতাধিক বন্ধুর এই পুনর্মিলনীতে পুরো রিসোর্ট জুড়ে তৈরি হয় এক অনাবিল আনন্দের আবহ।
মাঠের লড়াই থেকে সুইমিংপুলের জলকেলিঃ
দুপুর ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলা এই উৎসবের সূচি ছিল নানা রঙে সাজানো। অনুষ্ঠানের শুরুতেই মাঠ কাঁপায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই শিবির—আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থক বন্ধুদের ফুটবল ম্যাচ। মাঠের লড়াইয়ে পেশাদারিত্ব আর গ্যালারির উন্মাদনায় ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হলে যেন বন্ধুদের সৌহার্দ্যই জয়ী হয়।
খেলা শেষে গ্রীষ্মের তীব্র গরম জুড়াতে টেবিলে হাজির করা হয় জ্যৈষ্ঠের ঐতিহ্যবাহী ‘মৌসুমী ফল উৎসব’। আম, জাম, লিচুর রসালো স্বাদের পর বন্ধুরা মেতে ওঠেন সুইমিংপুলের শীতল জলে। সাঁতার আর জলকেলির সেই মুহূর্তগুলো সবাইকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় ফেলে আসা দুরন্ত শৈশবে।

সুরের মূর্ছনায় সন্ধ্যা ও রাজকীয় নৈশভোজঃ
সন্ধ্যার আলো আঁধারিতে শুরু হয় মূল আকর্ষন—সাংস্কৃতিক আড্ডা। পেশাদার শিল্পীদের পাশাপাশি মঞ্চে সুরের জাদু ছড়ান ঢাকা কলেজেরই কৃতি বন্ধুরা। পুরোনো দিনের জনপ্রিয় সব গান গেয়ে পুরো অনুষ্ঠানস্থল মাতিয়ে রাখেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের পরিচালক মহব্বত হোসাইন, মজনু, অভিজিত, প্রকৌশলী মনজুর আলম ও টেক্সটাইল ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান। সবশেষে এক রাজকীয় বুফে ডিনারের মাধ্যমে পর্দা নামে এই আনন্দঘন উৎসবের।
এক মঞ্চে দেশের একঝাঁক গুণীজনঃ
এই আনন্দ উৎসবে শামিল হয়েছিলেন সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও জ্যেষ্ঠ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন পেশার স্বনামধন্য বন্ধুরা। উপস্থিত ছিলেন: মাসুদ রানা (পরিচালক-প্রশাসন, জনশক্তি ও কর্মসংস্থান অধিদপ্তর), তোফাজ্জল হোসেন সাগর (উপসচিব, ভূমি মন্ত্রণালয়), কর্নেল তৌহিদুজ্জামান জনসন (আর্মি হেডকোয়ার্টার্স),
কর্নেল আব্দুল মাবুদ শান্ত (পরিচালক, বিকেএসপি), মহিবুল ইসলাম খান (এডিশনাল ডিআইজি, রংপুর রেঞ্জ), খোরশেদ আলম আকাশ (নির্বাহি প্রযোজক, নিউজ-বিটিভি),

খোরশেদ আলম সীমান্ত (সিনিয়র সাংবাদিক)
মহব্বত হোসাইন (পরিচালক, বাংলাদেশ চা বোর্ড)
নেপথ্যের কারিগর যারাঃ
অল্প সময়ে এত বড় একটি আয়োজন সফল করার পেছনে মূল অবদান রেখেছেন ঢাকা কলেজ এলামনাই এসোসিয়েশন এইচএসসি ‘৯৬-এর নির্বাচিত সভাপতি ডা. মো. আশরাফুল হাসান মানিক এবং সাধারণ সম্পাদক মো. ওয়াহিদ আলম তুলিত। এছাড়াও দিনরাত পরিশ্রম করেছেন সামার ফেস্টের আহবায়ক রায়হান আজাদ টিটো, সদস্য সচিব মহব্বত হোসাইন এবং সমন্বয়কারী প্রকৌশলী আহসানউজ্জামান দুলাল ও প্রকৌশলী সুজাউদ্দিন সুজন।
বিদায়বেলায় সবার চোখেমুখে ছিল আবার দ্রুতই এক হওয়ার আকুল আকুতি।
