শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
প্রচ্ছদ বড় ধরনের হামলার আশঙ্কা

বড় ধরনের হামলার আশঙ্কা

সফিকুল ইসলাম: আজ মঙ্গলবার ২৩ জুন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। যেকোনো বিশৃঙ্খলা, ঝটিকা মিছিল ও নাশকতার চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। নাশকতা এড়াতে ঢাকাসহ ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। এরইমধ্যে ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে-প্রবেশপথ ও স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সড়ক-মহাসড়কের মোড়ে মোড়ে বসানো হয়েছে তল্লাশি চৌকি (চেকপোস্ট)।

জানা গেছে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র সতর্কতা ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায়, তাদের যেকোনো প্রকাশ্যে মিছিল, পতাকা উত্তোলন বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করতে পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দেশজুড়ে বড় ধরনের হামলার আশঙ্কার তথ্য জানিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা। নির্বাসিত ও আত্মগোপনে থাকা দলটির নেতাকর্মীদের আকস্মিক উপস্থিতি, রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের খবর এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক তৎপরতার জেরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এরইমধ্যে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সব জেলা ও মেট্রোপলিটন পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম এড়াতে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ ও চট্টগ্রামে সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। আজকেই সব জায়গায় সেনা মোতায়েন করা হবে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য কর্মসূচি ও অপতৎপরতা ঘিরে নাশকতা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কায় রাজধানী ঢাকাসহ ছয়টি জেলায় সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সরকারের নেওয়া এই বিশেষ নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপের মূল দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে-ঢাকা মেট্রোপলিটন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন, গাজীপুর মেট্রোপলিটন, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর। ওইসব এলাকায় দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেন্দ্র করে শোডাউন বা মিছিলের মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। এতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বা অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি রয়েছে। এ জন্য পুলিশের সব ইউনিটকে সারা দেশব্যাপী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন যাবত রাজধানীসহ বেশ কিছু এলাকায় নিষিদ্ধ ও আড়ালে থাকা যুবলীগের কর্মীরা ঝটিকা মিছিল বের করে। মিছিল থেকে হঠাৎ বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয় এবং মুহূর্তের মধ্যেই তারা এলাকা ত্যাগ করে। শুধু ঢাকাতেই নয়, দেশের আরও কয়েকটি জেলা শহর থেকে গভীর রাতে দলটির সহযোগী সংগঠনগুলোর এমন ছোট ছোট ‘ঝটিকা মিছিল’ ও মোটরসাইকেল মহড়া দিচ্ছে। দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দলটির নেতাকর্মীদের এমন হঠাৎ মাঠে নামার চেষ্টা এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাকে বড় ধরনের নাশকতার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে দেখছে পুলিশ। তবে ডিএমপি বলছে, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতীতের মতোই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা চেকপোস্ট অব্যাহত রয়েছে। এ কার্যক্রম চলমান থাকবে। মাঠপর্যায়ের পাশাপাশি ভার্চুয়াল জগতেও ব্যাপক তৎপর হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনগুলো। গত কয়েক দিন ধরে ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার), ইউটিউব এবং টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে দলটির অফিশিয়াল ও আনঅফিশিয়াল পেজ থেকে একের পর এক পোস্ট, ভিডিও এবং প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার একটি বড় অংশ দলটির কর্মী-সমর্থকদের দখলে চলে গেছে। তারা ২৩ জুনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে কর্মী-সমর্থকদের রাজপথে নামার ডাক দিচ্ছে এবং বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, সাইবার স্পেস ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং মাঠের কর্মীদের চাঙ্গা করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সেল কাজ করছে। আওয়ামী লীগের এই আকস্মিক তৎপরতা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ও শঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। সাধারণ মানুষের মনে এখন বড় প্রশ্ন, তাহলে কি আরেকটি বড় ধরনের সংঘাতের দিকে যাচ্ছে দেশ। তবে মাঠপর্যায়ে গুঞ্জন উঠেছে, ২৩ জুন বড় কোনো ধাক্কা দিয়ে আবারও দৃশ্যপটে আসার পরিকল্পনা করছে আওয়ামী লীগ।
এ বিষয়ে কথা হয় ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম এর সঙ্গে। তিনি বলেন, তারা এসংক্রান্ত চিঠি পেয়েছেন। তবে তিনি বলেন, স্পেসিফিক কোনো থ্রেট বা আশঙ্কা নেই। আমরা সতর্ক আছি। তিনি বলেন, সারা বছরই বিভিন্ন কর্মসূচি থাকে। আমাদের সামনে বড় কর্মসূচি হচ্ছে ১০ মহররমের আশুরা। পাশাপাশি ২৩ জুন একটি দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, তাই আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছি। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতীতের মতোই পুলিশের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা বহাল থাকবে বলেও জানান তিনি। নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের নতুন পরিকল্পনা, নতুন নিরাপত্তা চেকপোস্ট ও অপারেশন কার্যক্রম অব্যাহত আছে এবং থাকবে।
ডিএমপির ১৮ হাজার ফোর্স মাঠে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করবে: রাজধানী ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপির ১৮ হাজারেরও বেশি অফিসার ও ফোর্স মাঠে থেকে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করবে। তবে ডিএমপি জানিয়েছে, দলটির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর বিভিন্ন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং নগরের নিরাপত্তা বজায় রাখতে পুরো ঢাকাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই দিনটি উপলক্ষ্যে রাজধানীজুড়ে ২০০টিরও বেশি কৌশলগত স্থানে পুলিশের বিশেষ পিকেট ও চেকপোস্ট ডিউটি পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহানগরের সবকটি প্রবেশপথে কড়া চেকপোস্ট ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার থাকবে, যাতে কোনো বহিরাগত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে। অন্যদিকে র‌্যাবের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, ঢাকাসহ সারাদেশে র‌্যাবের সদস্যও মোতায়েন করা হবে। কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের কাউকে মাঠে নামতে দেওয়া হবে না।
৬ জেলায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে: কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে নাশকতা এড়াতে ঢাকাসহ ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম এড়াতে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ ও চট্টগ্রামে সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। আজকেই সব জায়গায় সেনা মোতায়েন করা হবে।
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে র‌্যাবের কড়া হুঁশিয়ারি: কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন র‌্যাব ২-এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান। তিনি জানান, ২৩ জুনকে কেন্দ্র করে কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠের ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে,সতর্ক থাকার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর: ২৩ জুন নিষিদ্ধ কার্যক্রম আওয়ামী লীগের
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেন্দ্র করে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি। এ জন্য সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগকে কোনো রাজনৈতিক দল মনে করি না। একটা মাফিয়া দল। তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। তবে ২৩ জুন এই দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সামনে রেখে যেকোনো কার্যক্রম সম্পর্কে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ যে মাফিয়া বাহিনী আওয়ামী লীগের কিছু অপতৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন জেলায় আমরা দেখেছি, তারা মিছিল-মিটিং করার মতো কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছে, দু-একটা জায়গায় দেখেছি। তাতে আমাদের মনে হয়েছে, তারা হয়তো একটা অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করলেও করতে পারে। এ বিবেচনায় আমরা আমাদের সব বাহিনীকে সতর্ক থাকার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি, যা সবসময় থাকে।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা