শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
প্রচ্ছদ ছাত্রের হাতে শিক্ষিকা মারধরের শিকার সালিশের মাধ্যমে ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টা

ছাত্রের হাতে শিক্ষিকা মারধরের শিকার সালিশের মাধ্যমে ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টা

মনোয়ার হোসেন সোহেল, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ রোবারর (২১ জুন) টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের ডা. শওকত আলী ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

 

যে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার আলো ছড়ানোর কথা, সেই শ্রেণিকক্ষেই ঘটেছে এ লজ্জাজনক ও ন্যাক্কারজনক ঘটনা।
জ্ঞানের আলো ছড়ানোর পবিত্র বিদ্যাপীঠ এখন যেন এক আতঙ্কের জনপদ।

নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মেহেদীর হাতে মারধর ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নজমুন নাহার নাহিদ।

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল সালিশের নামে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষকের বাড়ি শেরপুরের নকলা উপজেলায়। প্রায় ছয় মাস আগে ডা. শওকত আলী ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন তিনি। গত সোমবার শ্রেণিকক্ষে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী সঙ্গে ওই শিক্ষকের কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তাঁকে শাসন করতে একটি থাপ্পড় দেন ওই শিক্ষক। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে কয়েকটি থাপ্পড় ও ঘুষি দেয় ওই শিক্ষার্থী। এই ঘটনার সময় শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী ছাড়াও তিন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

অভিযুক্ত মেহেদির বাবা ছবুর মিয়া একই বিদ্যালয়ের দপ্তরি হিসেবে কর্মরত, আর বাবার সেই প্রভাবকে পুঁজি করেই দীর্ঘদিন ধরে বেপরোয়া আচরণ করে যাচ্ছিল মেহেদি। ঘটনার তিনদিন পর সালিশের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে একটি প্রভাবশালী মহল। এতে ক্ষোভ আরও বাড়ছে।

এলাকাবাসীর দাবি, একজন শিক্ষকের গায়ে হাত তোলা শুধু ব্যক্তি আক্রমণ নয়, এটি পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর আঘাত। এমন ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে ভবিষ্যতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও শিক্ষকদের নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা। উপজেলা প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তারা।

 

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘটনার পর তাঁর দুই সহকর্মী পারভীন আক্তার ও রোকেয়া আক্তারের বাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর পক্ষ নিয়ে তাঁকে হুমকি দিয়েছেন। বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, ‘যেখানে শিক্ষকরা শিক্ষককে ও ছাত্ররা শিক্ষককে সম্মান দিতে জানে না সেই বিদ্যালয়ে আর ফিরে যাব না। এই পেশায় আর ফিরে যেতে ইচ্ছে করছে না। সরকার যদি নিজ জেলায় আমাকে বদলির ব্যবস্থা করে তবে, না হয় ভেবে দেখব।’

 

শিক্ষার্থীরা জানায়, শিক্ষকের গায়ে হাত তোলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়েছে তারা।

শিক্ষিকা নাজমুন নাহার নাহিদ জানান, আমার সঙ্গে যা হয়েছে তা কোনো শিক্ষকই মেনে নিতে পারবেননা। ঘটনার সঠিক বিচার চেয়েছেন তিনি।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বাবা সবুর মিয়া মোবাইল ফোনে সংবাদকর্মীর পরিচয় পেয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন জানান, সালিশের মাধ্যমে ওই ছাত্রকে টিসি দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, শুনেছি এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিদের উপস্থিততে একটি গ্রাম্য সালিশে অভিযুক্ত ছাত্রকে টিসি দিয়ে বের করে দেওয়া সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

ডা. শওকত আলী ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্বে আছেন ইউএনও মাহমাদুল হাসান। তাঁর ভাষ্য, কোনো শিক্ষক ঘটনাটি তাঁকে জানাননি। তবে লোকমুখে বিষয়টি শুনেছেন।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা