স্টাফ রিপোর্টার : সারা বিশ্বের সমুদ্রপথ ও অভ্যন্তরীণ নৌপথে কর্মরত নাবিকদের অসামান্য অবদান, আত্মত্যাগ এবং বিশ্ব বাণিজ্যে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকে সম্মান জানাতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)-তে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে ‘বিশ্ব নাবিক দিবস ২০২৬’।
বৃহস্পতিবার ২৫ জুন দিবসটি উপলক্ষে বিআইডব্লিউটিসির সম্মেলন কক্ষে নাবিক সমাবেশ, আলোচনা সভা এবং ‘বিআইডব্লিউটিসি এক্সেপশনাল ব্রেভারি অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ ইনল্যান্ড মাস্টার অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিমা) এবং বিআইডব্লিউটিসির মেরিন বিভাগ যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
দেশের অর্থনীতি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নাবিকদের ভূমিকা
বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (কারিগরি) ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ হাসেমুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কর্পোরেশনের পরিচালক (প্রশাসন) ও যুগ্ম সচিব মো. রবিউল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিচালক (অর্থ) শেখ মুহাম্মদ নাসিম।
আলোচনা সভায় বক্তারা বিশ্ব বাণিজ্যে নাবিকদের অপরিহার্য ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন:
বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ পণ্য নৌপথে পরিবাহিত হয় এবং এর মূল চালিকাশক্তি হলেন নাবিকরা।
বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ১৫ লক্ষাধিক নাবিক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্র ও নৌপথে দায়িত্ব পালন করছেন।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথে প্রায় দেড় লাখ নাবিক কর্মরত রয়েছেন।
এর মধ্যে বিআইডব্লিউটিসির প্রায় ১,৫০০ জন নাবিক বিভিন্ন মালবাহী, তেলবাহী, ফেরি ও যাত্রীবাহী নৌযানে কর্মরত থেকে দেশের অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থাকে সচল রাখছেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. রবিউল আলম বলেন,
“নাবিকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও আত্মত্যাগের কারণেই বৈশ্বিক ও জাতীয় অর্থনীতি গতিশীল রয়েছে। পরিবার-পরিজন থেকে দীর্ঘ সময় দূরে থেকে তাঁরা অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দেশের সেবা করে যাচ্ছেন।”
সভাপতির বক্তব্যে ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ হাসেমুর রহমান চৌধুরী নাবিকদের অধিকার, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম মূল আকর্ষণ ছিল ‘বিআইডব্লিউটিসি এক্সেপশনাল ব্রেভারি অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ প্রদান। কর্মক্ষেত্রে অসাধারণ সাহসিকতা ও দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতিস্বরূপ এই বছর দুজন মাস্টার অফিসারকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়:
পুরস্কৃত নাবিক, মোসাহিদুল ইসলাম। মাস্টার অফিসার, ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌরুট, ফেরি ‘বেগম রোকেয়া’ ও আল আমিন সরকার, মাস্টার অফিসার। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুট, রো-রো ফেরি ‘এনায়েতপুরী’।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও উল্লেখ করেন যে, নাবিকদের কঠোর পরিশ্রম, দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে দূরে অবস্থান এবং নানা প্রাকৃতিক ও পেশাগত প্রতিকূলতার বিষয়টি সমাজের সকল স্তরে আরও বেশি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে তাঁদের আইনি অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সচেতন ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)-এর উদ্যোগে প্রতি বছর ২৫ জুন বিশ্বব্যাপী ‘বিশ্ব নাবিক দিবস’ পালিত হয়ে আসছে। দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্ব বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে নাবিকদের অবদানের স্বীকৃতি প্রদান এবং তাঁদের অধিকার ও কল্যাণ সম্পর্কে বিশ্বজুড়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাস্টার অফিসার মো. রেজাউল করিম। মেরিন ম্যানেজার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশ্ব নাবিক দিবসের তাৎপর্য নিয়ে একটি তথ্যবহুল পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনও উপস্থাপন করা হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মহাব্যবস্থাপক (মেরিন) ক্যাপ্টেন বাপ্পি কুমার অধিকারী, চিফ পারচেজ ম্যানেজার মানসুরা আহমেদ, চিফ পার্সোনাল ম্যানেজার মো. ফজলে রাব্বি, জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম মিশা, বিআইডব্লিউটিসি এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন, ইনল্যান্ড মাস্টার অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম এবং মাস্টার অফিসার আলমগীর কবির প্রমুখ।
৮৪
