শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
প্রচ্ছদ দৈনিক জনতায় সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসল প্রশাসন

দৈনিক জনতায় সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসল প্রশাসন

• কক্সবাজারে ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে তদন্তে ইউএনও
• চার মাসেও মিলছে না জন্মনিবন্ধন; এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম, ব্যর্থ হলে আইনগত ব্যবস্থা

রিয়াজ উদ্দিন, কক্সবাজার: কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়ন পরিষদে জন্মনিবন্ধন সেবা নিয়ে দীর্ঘ চার মাসের জনভোগান্তির সংবাদ দৈনিক জনতায় প্রকাশিত হওয়ার পর অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সৈয়দ মোহাম্মদ জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, নাগরিক সেবা ব্যাহত করা, অসহযোগিতা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিন তদন্ত করেছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার। একই সঙ্গে এক সপ্তাহের মধ্যে সব অনিয়ম ও সেবাজট নিরসনের নির্দেশ দিয়ে ব্যর্থ হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা এবং সরকারি ফি পরিশোধের পরও চার মাস ধরে জন্মনিবন্ধন সনদ হাতে পাননি অসংখ্য আবেদনকারী। এতে শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী, পাসপোর্ট আবেদনকারীসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবা নিতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
ভুক্তভোগীরা জানান, জন্মনিবন্ধনের আবেদন সম্পন্ন করার পর নিয়মিত ইউনিয়ন পরিষদে গেলেও সচিব নানা অজুহাতে তাদের ফিরিয়ে দেন। অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি জানিয়ে দেন, তিনি জন্মনিবন্ধনের কাজ করবেন না। ফলে দিনের পর দিন ইউনিয়ন পরিষদে ঘুরেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা।
পিএমখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, “প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ সচিবকে না পেয়ে আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে আসেন। আমি ফোন করলে সচিব বলেন, ‘আমি জন্মনিবন্ধন বের করতে পারব না, আপনি যা পারেন করেন।’”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “নতুন সচিব যোগদানের পর থেকেই সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। আজ-কাল করতে করতে চার মাস পার হয়ে গেলেও অনেকের জন্মনিবন্ধনের কাজ সম্পন্ন হয়নি। কেউ খোঁজ নিতে গেলে সচিব গ্রাম পুলিশের কাছে যেতে বলেন। শুধু সাধারণ মানুষ নয়, পরিষদের সদস্য ও কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তিনি প্রায়ই দুর্ব্যবহার করেন।”
এসব অভিযোগের পর মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে ইউএনও তাহমিনা আক্তার পিএমখালী ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করেন। তিনি ভুক্তভোগী, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য শোনেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন।
তদন্ত শেষে ইউএনও বলেন, “সচিবের বিরুদ্ধে জন্মনিবন্ধন সেবা ছাড়াও আরও কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে সব অসংগতি দূর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
জেলার স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মো. শামীম আল ইমরান বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে সচিব সৈয়দ মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, “আমার সঙ্গে চেয়ারম্যানের বাকবিতণ্ডা হয়েছে। পরিষদের সব কাজ আমাকে অবহিত না করে করা হয়। আমি জন্মনিবন্ধন বের করব না—সেটা চেয়ারম্যান ও ইউএনওকে জানিয়ে দিয়েছি।”
তবে সচিবের এ বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের ভাষ্য, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের কারণে সাধারণ মানুষের সাংবিধানিক ও নাগরিক সেবা ব্যাহত হতে পারে না। জন্মনিবন্ধনের মতো মৌলিক সেবা নিয়ে এমন অচলাবস্থা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এলাকাবাসীর দাবি, তদন্তের পর দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা জন্মনিবন্ধন সনদ দ্রুত বিতরণের মাধ্যমে নাগরিক সেবা স্বাভাবিক করা হোক।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা