রিয়াজ উদ্দিন, কক্সবাজার প্রতিনিধি: টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় কক্সবাজার সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
এমন পরিস্থিতিতে বুধবার (৯ জুলাই) কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে জরুরি খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দুর্গত এলাকার মানুষের খোঁজখবর নেন এবং তাদের হাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা তুলে দেন।
ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে ঝিলংজা ইউনিয়নের মুহুরীপাড়া, পিএমখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা, খরুলিয়া, বাংলা বাজার, বাঁকখালী নদী তীরবর্তী গ্রাম এবং মধ্যম মহুরীপাড়াসহ বন্যাকবলিত বিভিন্ন স্থানে গিয়ে পানিবন্দি পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, চিড়া, বিস্কুটসহ বিভিন্ন ধরনের শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী ও স্বাস্থ্য সুরক্ষাবিষয়ক সহায়তাও প্রদান করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক এলাকায় এখনো হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি। নৌকা ও পায়ে হেঁটে দুর্গত মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ পৌঁছে দেন উপজেলা পরিষদের প্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবকরা। আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এই সহায়তা পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পিএমখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবদুল্লাহ, ইউপি সদস্য নুরুল আবছার, মুহসিনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আবু তাহের মিজবাহ, ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্যবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সচেতন মহল।
ত্রাণ বিতরণকালে সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কোনো পরিবারকে সহায়তার বাইরে রাখা হবে না। পানি পুরোপুরি নেমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে বিশুদ্ধ পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগও চলমান থাকবে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বন্যার কারণে অনেক এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং জলবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়েছে। তাই খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি, ওয়াটার পিউরিফিকেশন ট্যাবলেট, ওরস্যালাইন ও চিকিৎসাসেবা আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
