শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
প্রচ্ছদ পাঁচ দিনের বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত কক্সবাজার

পাঁচ দিনের বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত কক্সবাজার

• প্রাণ ঝরল ২৪জনের

• পানিবন্দি ৫ লাখের বেশি মানুষ

• আশ্রয়ে যাওয়ার পথেই দুই বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু

রিয়াজ উদ্দিন, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি: টানা পাঁচ দিনের অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে যেন এক বিশাল জলরাশিতে পরিণত হয়েছে কক্সবাজার। জেলার চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরীসহ বিস্তীর্ণ জনপদ এখনো পানির নিচে। কোথাও কোমরসমান, কোথাও তারও বেশি পানি। লাখো মানুষ ঘরবন্দি, হাজারো পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে, আর প্রকৃতির এই ভয়াল রূপে নিভে গেছে অন্তত ২৪টি প্রাণ।

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নের রসুলাবাদ এলাকায়। নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে পরিবারের সঙ্গে ডিঙি নৌকায় রওনা হয়েছিল ১৩ বছর বয়সী হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণা ও তার ছোট বোন শাওরিন মনি। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ঝড়ো বাতাসে নৌকাটি উল্টে যায়। পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রাণে বাঁচলেও দুই বোন আর ফিরে আসেনি। প্রায় চার ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানের পর ফায়ার সার্ভিস তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যা ও পাহাড়ধসে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। জেলার ৩৫টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। চকরিয়া ও পেকুয়ার বিভিন্ন ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অসংখ্য ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
দুর্যোগে প্রাণ হারানো ২৪ জনের মধ্যে ১৫ জনই উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা। পাহাড়ধসে নিহতদের অধিকাংশই শিশু। এছাড়া কক্সবাজার সদর, চকরিয়া, পেকুয়া, উখিয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায়ও মৃত্যু হয়েছে কয়েকজনের।
এদিকে বৃষ্টি কিছুটা কমলেও জেলার প্রধান দুই নদী বাঁকখালী ও মাতামুহুরী এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, নদীর পানি কমতে শুরু করলেও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ দিনে কক্সবাজারে ৫৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হয়েছে আরও ৭১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত। আগামী কয়েকদিনও ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে এবং উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কন্ট্রোল রুম চালু করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়সংলগ্ন ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রকৃতির এই ভয়াবহ দুর্যোগ কেবল অবকাঠামো নয়, কেড়ে নিয়েছে বহু পরিবারের স্বপ্নও। পানির স্রোত একদিন থেমে যাবে, কিন্তু প্রিয়জন হারানোর বেদনা থেকে যাবে দীর্ঘদিন।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা