এস.এম.নাহিদ: মাত্র কয়েকঘন্টার বৃষ্টিতে রাজধানীর খিলক্ষেত আবারও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ডুমনি নূরপাড়া এলাকায় নতুন নির্মিত একটি সড়কের অংশ ধসে পড়েছে। খিলক্ষেতের ভিতরে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল ব্যাহত হওয়ায় পাওয়ার টিলার,ভ্যানগাড়ি ও প্যাডেলচালিত রিকশাই হয়ে উঠেছে মানুষের যাতায়াতের ভরসা। বনরূপা, খা-পাড়া, নয়ানগর, উত্তরপাড়া, মধ্যপাড়া, নামাপাড়া, বটতলা, আমতলা, বাঁশতলা ও বেপারীপাড়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকার নিচতলার ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে ময়লা পানি ঢুকে পড়ে ব্যাপক দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
জলাবদ্ধতার কারণে জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। ডুমনি, পাতিরা, মস্তুল, তলনা ও ঢেলনা এলাকার নিচু জমি ও নদী থেকে পানির সঙ্গে সাপ ও বিভিন্ন পোকামাকড় লোকালয়ে চলে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকলে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ, চর্মরোগ, ডায়রিয়া এবং অন্যান্য পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। নিকুঞ্জ এলাকাতেও দুর্গন্ধযুক্ত পানি জমে থাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি নলকূপ ও পানির উৎস তলিয়ে যাওয়ায় নিরাপদ সুপেয় পানির সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জলাবদ্ধতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। সড়কে পানি জমে থাকায় হাজার হাজার অটোরিকশাচালক, রিকশাচালক, দিনমজুর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারেননি। দিন এনে দিন খাওয়া মানুষের জন্য একটি কর্মহীন দিন মানেই সংসারে অনিশ্চয়তা। অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হলে রাজধানীর কাঁচাবাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খিলক্ষেতে জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও কার্যকর সমাধান হয়নি। প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। তাদের দাবি, পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা উন্নয়ন, খাল-নালা পুনরুদ্ধার, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
