নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: বাংলাদেশ জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান সভাপতি মো. সালাইমান নিজেকে সাবেক ছাত্রদল নেতা এবং বর্তমানে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল (জাসাস)-এর নেতা হিসেবে পরিচয় দিলেও, তার বিরুদ্ধে পটুয়াখালী কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে তাকে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী ও নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ নিয়ে সমবায় অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
তবে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে তা অবিলম্বে খারিজের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটি। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রামের ফিশারিঘাটে সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, বর্তমান সভাপতি মো. সালাইমান একজন প্রকৃত মৎস্যজীবী পরিবারের সন্তান। তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে মাছ আহরণ ও মৎস্য ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাকে অমৎস্যজীবী বা বিগত সরকারের সুবিধাভোগী হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, সভাপতি মো. সালাইমান ছাত্রজীবনে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০০৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল, রাজশাহী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল (জাসাস)-এর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। অথচ মন্ত্রণালয়ে দেওয়া অভিযোগে তাকে ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যা রাজনৈতিকভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা বলে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, যাদের বিরুদ্ধে বর্তমান কমিটি বকেয়া অর্থ আদায় ও অনিয়মের বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নিয়েছে, তারাই নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় বর্তমান নেতৃত্বকে বিতর্কিত করতে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দাখিল করেছে। অভিযোগকারীদের একটি অংশ প্রায় ১৭ বছর নির্বাচন ছাড়াই সরকারি মনোনয়নের মাধ্যমে সমিতির নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং সেই সময়ে নানা অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল বলেও দাবি করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের কাছে পটুয়াখালী কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি আবুল হোসেনের দায়ের করা অভিযোগ তদন্ত করে দ্রুত খারিজ, অপপ্রচারে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. সোলাইমান, চরফ্যাশন কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম মিয়া, শিবপুর-মনোহরদী কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি আমিনুল হক মোল্লা, সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সদস্য রবিন মণ্ডল, কুমিল্লা সদর উত্তর-দক্ষিণ কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি শরীফ উল্লাহ সরকার, নাটোর কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি শহিদুল ইসলাম, পিরোজপুর কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি মাহবুবুর রহমান, চকরিয়া কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি আশরাফ আলীসহ ব্যবস্থাপনা কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
৬৭
