রিয়াজ উদ্দিন | কক্সবাজার: দীর্ঘ সাত বছরের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাফর আহমদকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৮ কোটি ৫৯ লাখ ৭৩ হাজার ৩৪৮ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রামের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোকাররম হোসাইন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, জাফর আহমদ তার সম্পদ বিবরণীতে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য গোপন করেন। পাশাপাশি বৈধ আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার অভিযোগও আদালতে প্রমাণিত হয়। আদালতে উপস্থাপিত নথিপত্র, সাক্ষ্য ও দালিলিক প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে বিচারক অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
দুদকের তদন্তে উঠে আসে, তিনি সম্পদ বিবরণীতে ৩ কোটি ৭৮ লাখ ৬০ হাজার ১০ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য গোপন করেন। এছাড়া ২০০১-০২ থেকে ২০১৭-১৮ করবর্ষ পর্যন্ত তার বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয় ছিল ২ কোটি ৫০ লাখ ৬ হাজার ৮৯৫ টাকা। একই সময়ে তার সম্পদ অর্জন ও বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭ কোটি ৪০ লাখ ৭৬ হাজার ১৯ টাকা। ফলে ৪ কোটি ৯০ লাখ ৬৯ হাজার ১২৪ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের কোনো বৈধ উৎস তিনি দেখাতে ব্যর্থ হন।
দুদক জানায়, ২০১৭ সালে অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তাকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই শেষে অসঙ্গতি ধরা পড়লে তদন্ত সম্পন্ন করে ২০১৯ সালে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত, অভিযোগ গঠন এবং একাধিক সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত বুধবার এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের বিষয়ে দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোকাররম হোসাইন বলেন, আদালতে উপস্থাপিত দালিলিক প্রমাণ ও সাক্ষ্যে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামিকে কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্জিত অবৈধ সম্পদের সমপরিমাণ অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “এই রায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে জাফর আহমদ আত্মগোপনে রয়েছেন। আদালতের রায় কার্যকর করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এ ধরনের মামলাগুলো নিষ্পত্তির মাধ্যমে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
৪২
