শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ আশুলিয়ায় ঘোড়া জবাই করে হোটেল-রেস্তোরাঁয় মাংস সরবরাহ

আশুলিয়ায় ঘোড়া জবাই করে হোটেল-রেস্তোরাঁয় মাংস সরবরাহ

জাহাঙ্গীর আলম রাজু, আশুলিয়া প্রতিনিধি: আশুলিয়ার তৈয়বপুর এলাকার একটি নির্জন ও পরিত্যক্ত বাড়িকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে ঘোড়া জবাই এবং সেই মাংস গরু ও খাসির নামে বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁয় সরবরাহের এক ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। সংঘবদ্ধ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ অপকর্ম চালিয়ে আসছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান তৈয়বপুর এলাকার ড্রেন ও ময়লার ভাগাড়সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত বাড়ি দীর্ঘদিন ধরে জনমানবশূন্য অবস্থায় পড়ে ছিল। এ নির্জনতার সুযোগ নিয়ে একটি অপরাধী চক্র সেখানে গোপন আস্তানা গড়ে তোলে। অভিযোগ রয়েছে, চক্রটি প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে বিভিন্ন স্থান থেকে ঘোড়া এনে ওই বাড়িতে এনে রাখত। এরপর গভীর রাতে সীমিত আলোয় কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করে ঘোড়া জবাই, চামড়া ছাড়ানো এবং মাংস প্রক্রিয়াজাত করার কাজ চলত। ভোর হওয়ার আগেই সেই মাংস প্যাকেটজাত করে সাভার, আশুলিয়া, উত্তরা ও কাশিমপুর এলাকার বিভিন্ন হোটেল, সাধারণ খাবারের দোকান এবং বিরিয়ানির দোকানে পৌঁছে দেওয়া হতো বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, গভীর রাতে ধারালো অস্ত্র হাতে কয়েকজন লোককে নিয়মিত ওই পরিত্যক্ত বাড়িতে যাতায়াত করতে দেখা যেত। এলাকার পরিবেশ নির্জন হওয়ায় এবং সশস্ত্র ব্যক্তিদের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাননি। তাছাড়া বাড়িটির সামনে ও পেছনে দুটি পৃথক পথ থাকায় অপরাধীরা সুবিধাজনকভাবে চলাফেরা এবং আত্মগোপন করত। সম্প্রতি সংবাদকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাটি জানতে পেরে রাতভেদে সেখানে গেলে টের পেয়ে অভিযুক্তরা তড়িঘড়ি করে পালিয়ে যায়। ফলে কাউকে হাতেনাতে ধরা সম্ভব না হলেও ঘটনাস্থল থেকে ঘোড়া জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণের বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ইয়ারপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য আছমা বেগম বলেন:
“পরিত্যক্ত বাড়িটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গুঞ্জন ছিল। গভীর রাতে সেখানে ঠিক কী চলত, তা নিয়ে মানুষ অনিশ্চয়তায় থাকত। এখন যে ঘোড়া জবাই ও মাংস সরবরাহের অভিযোগ এসেছে, তার দ্রুত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”ঘটনাটি নজরে আসার পর নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন। সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তিনি জানান: উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উক্ত বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,অপরাধী চক্রটিকে শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দ্রুতই ওই স্থানে অভিযান চালানো হবে। এছাড়া জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং প্রতারণামূলক এ কাজের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা