শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
প্রচ্ছদ যুক্তরাজ্যে মামলার জের: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি, থানায় জিডি

যুক্তরাজ্যে মামলার জের: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি, থানায় জিডি

শরিফ মাহমুদ, ​কুষ্টিয়া

যুক্তরাজ্যের আদালতে দায়ের করা একটি দেওয়ানি মামলার জের ধরে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এক প্রবাসীর পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন প্রবাসীর স্বজনরা। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তাজনিত কারণে মো: ইয়াদ আলী (৬৯) নামে এক ব্যক্তি দৌলতপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন।

​জিডি সূত্রে জানা যায়, দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের পোয়ালবাড়িয়া গ্রামে মো: ইয়াদ আলীর বসতবাড়ির সামনে গত  ৯ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার সময় এক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য প্রবাসী শফিউল ইসলামের নির্দেশে তাঁর মা মোছা: ছাপেলা খাতুন (৭৯) এবং ভাই মো: রিপন (৪২) এক স্থানীয় চিহ্নিত ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে ইয়াদ আলী ও তাঁর স্ত্রী সুফিয়া খাতুনকে গালিগালাজ করেন।

​ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, ইয়াদ আলীর বড় ছেলে মো: মাসুদ রানা এবং অভিযুক্ত শফিউল ইসলাম উভয়েই বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দ্বৈত নাগরিক। যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে শফিউল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্থ প্রতারণার অভিযোগে লেস্টার কাউন্টি কোর্টে একটি মামলা দায়ের করেন মাসুদ রানা। যার মামলা নম্বর: ৭১১MC৭৩৪। অভিযোগকারীরা জানান, উক্ত মামলাটি তুলে নেওয়ার জন্য প্রবাসীর পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল।

​অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বিবাদীরা হুমকি দিয়ে বলেন, মামলা না তুললে মাসুদ রানাকে ‘তুলে নেওয়া’ হবে এবং প্রয়োজনে তাকে বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে মেরে ফেলা সম্ভব। একইসঙ্গে বাংলাদেশে অবস্থানরত তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ সম্পূর্ণ ঘটনাটি বসতবাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা রয়েছে বলেও জিডিতে জানানো হয়েছে।

​জিডিকারীর পুত্র মাসুদ রানা একজন ব্রিটিশ নাগরিক হওয়ায় তাঁর নিরাপদ বাংলাদেশ সফরের স্বার্থে এবং পরিবারের সুরক্ষায় বিষয়টি পুলিশের অফিসিয়াল রেকর্ডে থাকা জরুরি বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা। প্রয়োজনবোধে জিডির কপি ব্রিটিশ হাই কমিশনেও জমা দেওয়া হতে পারে বলে সূত্রে জানা গেছে।

​এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মো: খালেদুর রহমান জানান, ঘটনাটি নিয়ে গত ১৩ জুলাই সাধারণ ডায়েরি নথিভুক্ত করা হয়েছে, যার জিডি নং: ৬৬৭। অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। এটা অধর্তব্য অপরাধ, এটা তদন্ত করতে গেলে কোর্টের অনুমতি লাগে। কোর্টের কাছে প্রেয়ার দেয়া হয়েছে এটার বিষয়ে অনুমতির জন্য। কোর্ট অনুমতি দিলে আমরা ওইটা প্রসিকিউশন দিয়ে দেব বিবাদীর বিরুদ্ধে, যদি ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা