শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
প্রচ্ছদ ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান ভরসা চালেই, আশা নেই ধানে

ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান ভরসা চালেই, আশা নেই ধানে

মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ থেকে : সিরাজগঞ্জে এবারও বোরো ধান সংগ্রহ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিগত বছরগুলোতেও জেলায় বোরো মৌসুমে ধান সংগ্রহে ছিল হতাশাজনক।

রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা এলএসডিতে এবার ধানের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে এক হাজার ৯ শত ৩২ মে,টন। সেখানে এক মাসে অর্জিত হয়েছে মাত্র ৮৪ মে,টন। অপরদিকে সিদ্ধ চালের লক্ষ্য মাত্রা ১২ হাজার ১১৪ মে,টনের বিপরীতে অর্জিত হয়েছে ৩ হাজার ৭৪২ মে,টন।

চান্দাইকোনা এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তন্ময় বলেন, কৃষকদের তালিকা প্রাপ্তি বিলম্ব ও বাজার মুল্য বেশিতে শঙ্কা থাকলেও লক্ষ্য মাত্রা অর্জনে আশাবাদী।

সোমবার ১৫ জুন পর্যন্ত জেলার ৯ টি উপজেলায় ৬ হাজার ২০৪ মে, টন ধান সংগ্রহ হয়েছে। যার লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ১৩৫ মে,টন। সিদ্ধ চালের লক্ষ্য মাত্রা ২৫ হাজার ৪৮৭ মে,টনে অর্জন হয়েছে ১২ হাজার ৯৩ মে,টন। আতব চালের লক্ষ্য মাত্রা ২৮২ মে,টন আর অর্জিত হয়েছে ২৫ মে,টন এবং গমের লক্ষ্য মাত্রা ৬৫৯ মে,টন হলেও এখন পর্যন্ত এক ছটাক গমও কিনতে পারেনি। বিগত বছরগুলোর মতো এবারও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ধান ও গম ৩ মে থেকে এবং চাল ১৫ মে থেকে সংগ্রহ শুরু হয়ে ৩১ আগস্টের মধ্যে এই মৌসুমের ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শেষ করার কথা রয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ মৌসুমে নির্ধারিত ক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে প্রতি কেজি বোরো ধান ৩৬ টাকায়, সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা, আতপ চাল ৪৮ টাকা ও গম ৩৬ টাকা।

ধান বিক্রির জন্য বিভিন্ন নিয়ম-কানুন ও হয়রানির কারণে সরকারিভাবে ধান বিক্রিতে আগ্রহ নেই বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। তবে খাদ্য বিভাগ বলছে ধান সংগ্রহের অবশিষ্ট সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের চেষ্টা করবেন তারা।

জেলা খাদ্য বিভাগ সুত্র জানায়, এবার জেলায় ১৪ হাজার ১৩৫ মে, টন ধান, ২৫ হাজার ৪৮৭ মে, টন সিদ্ধ চাল, ২৮২ মে, টন আতব চাল ও ৬৫৯ মে, টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জ সদর ধান ১৪৩২ মে,টন ও চাল ১৮৯৫ মে,টন। উল্লাপাড়ায় ধান ৩০২৮ মে,টন ও চাল ৪৩৭৭ মে,টন। শাহজাদপুরে ধান ২২৬১ মে,টন ও চাল ৩৫২৪ মে,টন। রায়গঞ্জে ধান ১৯৩২ মে,টন ও চাল ১২১১৪ মে,টন। তাড়াশে ধান ২২৪৪ মে,টন ও চাল ৫০৬ মে,টন। বেলকুচিতে ধান ৮৭৮ মে, টন ও চাল ৩৪৪ মে,টন। কাজীপুরে ধান ১৩০৮ মে, টন ও চাল ১২৩৪ মে,টন। কামারখন্দে ধান ৬৭৯ মে,টন ও চাল ১৪৯৩ মে,টন এবং চৌহালী উপজেলায় শুধু ধান ৩৭৩ মে, টন লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

কৃষকদের অভিযোগ, শতভাগ আদ্রতা, কৃষক কার্ড, ব্যাংক হিসাব, অ্যাপস ও লটারিসহ বিভিন্ন নিয়ম কানুনের ঝক্কি ঝামেলার কারণে সরকারি গোডাউনে ধান দিতে অনীহা। এছাড়াও বর্তমানে বেশিরভাগ কৃষকের তালিকা হয় ব্যক্তি সম্পর্ক ও রাজনৈতিক বিবেচনায়। যারা কৃষক হিসেবে তালিকাভুক্ত হন, তাদেরও ধান বিক্রয় করতে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। এছাড়া ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে প্রকৃত কৃষকদের অন্তর্ভুক্ত করতে সরকারের প্রচার-প্রচারণারও অভাব রয়েছে। এসব কারণে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয় না।

সিরাজগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা হারুন অর রশীদ জানান, জেলার প্রত্যেক উপজেলায় কৃষকের অ্যাপস ও লটারির মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। কৃষকদের তালিকা প্রাপ্তি বিলম্ব হওয়ায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে বিগত বছরের চেয়ে এবার ধানের মূল্য বেশি হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, কোনো গোডাউনে ধান-চাল দিতে গিয়ে যদি কোনো কৃষক হয়রানির স্বীকার হয় এমন অভিযোগ পেলে অবশ্যই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা