মহিনুল ইসলাম সুজন,ডিমলা(নীলফামারী)প্রতিনিধি: টানা ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও ধীরে ধীরে তা কমে বর্তমানে বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিটার(৫১ দশমিক ৯৬) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
শুক্রবার(১০ জুলাই)দিবাগত রাত ৯টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ও নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার মাঝামাঝি অবস্থিত ডালিয়া ব্যারেজ পয়েন্টে পানির সমতল রেকর্ড করা হয় ৫১ দশমিক ৯৬ সেন্টিমিটার।যা বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিটার নিচে।
এখানে স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার।
এই পয়েন্টেই বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই)রাত ৮টায় বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার (৫২ দশমিক ১৬) ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছিলো। পানি বাড়ায় কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলেও পানি কমে যাওয়ার সাথে সাথে সেইসব এলাকার পানিও নেমে গেছে।বৃহস্পতিবার রাতে তিস্তার পানি বাড়ায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই,পশ্চিম ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, গয়াবাড়ী ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী, শৌলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছিল।তবে বর্তমানে সেইসব এলাকা থেকে পানি নেমে যাওয়ায় বন্যার শঙ্কায়ও আপাতত কেটে গেছে।
খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের দোহল পাড়া গ্রামের রেজাউল ইসলাম জানান,নদীর পানি বৃহস্পতিবার রাতের চেয়ে শুক্রবার অনেকটাই কমেছে।আপাতত বন্যার শঙ্কা না থাকলেও পানি ব্যাপকহারে বাড়ার জন্য ৪-৫ ঘন্টাই যতেষ্ট।
টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে নিম্নাঞ্চল পানি বাড়লেও এখন পানি কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আমার এলাকায় কোনো পরিবার পানিবন্দি নেই।
পুর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বলেন,বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পানি কিছুটা বেড়েছিলো।শুক্রবার সকাল থেকে পানি কমতে শুরু করে বিকেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।এই এলাকায় এত কম পানিতে কোনো পরিবার পানিবন্দি হয়না।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, শুক্রবার সকাল ৯টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার,দুপুর ১২ টায় ১৬ সেন্টিমিটার, বিকেল ৩টায় তা অপরিবর্তিত থেকে বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার,সন্ধ্যা ৬টায় ১৭ সেন্টিমিটার,রাত ৯টায় তা আরও কমে ১৯ সেন্টিমিটার(৫১ দশমিক ৯৬) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
