শাহাব উদ্দিন আহমদ, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার):
মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া ও কমলগঞ্জ উপজেলার মনু নদীতীরবর্তী কয়েক লাখ মানুষ বর্ষা এলেই চরম অনিশ্চয়তা ও বন্যা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের আপত্তির কারণে মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় নদীভাঙন ও পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকি বেড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বর্ষায় ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি রক্ষার পরিবর্তে তাদের নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২১ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় ৯৯৬ কোটি ২৮ লাখ টাকার মনু নদী বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নদীভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প অনুমোদিত হয়। এর আওতায় কুলাউড়া উপজেলায় ৩০৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৮টি প্যাকেজের কাজ চলছে, যার মধ্যে রয়েছে ২০টি স্থায়ী তীর সংরক্ষণ কাজ, চারটি চর অপসারণ এবং চারটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনর্নির্মাণ প্রকল্প। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি প্রায় ৭০ শতাংশ।
তবে শরীফপুর ইউনিয়নের দত্তগ্রাম, নিশ্চিন্তপুর, তেলিবিল ও বাগজুর এলাকায় প্রায় ২ দশমিক ২ কিলোমিটার প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজ ২০২৩ সালের ১৩ জানুয়ারি থেকে বিএসএফের আপত্তির কারণে বন্ধ রয়েছে। প্রায় ৪৫ কোটি টাকার এই কাজ ২০২১ সালে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শুরু করলেও সিসি ব্লক ও জিও ব্যাগ প্রস্তুতের পর আর অগ্রসর হতে পারেনি। এদিকে পৃথিমপাশার শিকড়িয়া এলাকায় ২০২৪ সালের বন্যায় প্রায় ১০০ ফুট বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে বহু বসতবাড়ি ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় পৃথিমপাশা, টিলাগাঁও, হাজীপুর ও শরীফপুর ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শিকড়িয়া, নিশ্চিন্তপুর, দত্তগ্রাম, তেলিবিল ও বাগজুর এলাকার কাজ শেষ না হওয়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে এখনো আতঙ্ক কাটছে না।
গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদে মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ শওকতুল ইসলাম শকু বিষয়টি তুলে ধরে দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান। এর আগে স্থানীয়রাও একাধিকবার মানববন্ধন ও স্মারকলিপির মাধ্যমে দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার বলেন, স্থায়ী সমাধানের জন্য দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর উদ্যোগ প্রয়োজন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলীদ জানান, যৌথ নদী কমিশনের মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে।
শ্রীমঙ্গল ৪৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ এই রিপোর্টারকে বলেন, সীমান্ত এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণে দুই দেশের সরকারি সংস্থার সমন্বয় অপরিহার্য। অনুমোদন পেলে বিজিবি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
