শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
প্রচ্ছদ যমুনায় ভাঙ্গনে নিঃস্ব হচ্ছে নদী পাড়ের হাজার হাজার মানুষ

যমুনায় ভাঙ্গনে নিঃস্ব হচ্ছে নদী পাড়ের হাজার হাজার মানুষ

মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ থেকে : টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি টানা ১১ দিন ধরে বাড়ার পর আজ থেকে সামান্য কমতে শুরু করলেও ভাঙ্গন অব্যহত রয়েছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সেই সাথে সদর, বেলকুচি, শাহজাদপুর, চৌহালী ও কাজীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র নদীভাঙনে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ২ সেন্টিমিটার কমেছে পানি।

শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় শহর রক্ষা বাঁধের হার্ড পয়েন্টে যমুনার পানি ১ সেন্টিমিটার এবং কাজীপুরের মেঘাইঘাট পয়েন্টে ২ সেন্টিমিটার কমেছে। বর্তমানে হার্ড পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৯ সেন্টিমিটার এবং মেঘাইঘাটে ৯৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, জেলার ৮৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩১টি ইউনিয়ন বন্যা ঝুঁকিতে রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভাঙনের শিকার হচ্ছে কাজীপুর ও চৌহালী উপজেলার ইউনিয়নগুলো।

বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
স্থানীয়দের দাবি, চলতি মাসেই অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি এবং বিস্তীর্ণ কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে পশ্চিম চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরগিরিশ ফ্লাড সেন্টারসহ বহু বসতভিটা ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।

শাহজাদপুর উপজেলার কুরসি গ্রামের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বলেন, গত দুই বছরে যমুনা তার প্রায় ১৫ বিঘা জমি কেড়ে নিয়েছে। এখন তিনি প্রায় নিঃস্ব। একই গ্রামের কৃষক আবুল হোসেনও নদীভাঙনে ১০ বিঘা জমি হারিয়ে পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।

চৌহালীর খাসপুকুরিয়া গ্রামের শাহিনুর বেগম বলেন, দুই বছরে তিনবার ঘর সরাতে হয়েছে। এখন আর যাওয়ার মতো কোনো জায়গা নেই।

সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক ভুঁইয়া বলেন, বালু মহালের ইজারাদাররা নির্দিষ্ট মহালের বাহিরে থেকে অপরিকল্পিতভাবে যত্রতত্র বালু উত্তোলনের কারণে প্রতি বছর ভাঙ্গনে নদী পাড়ের হাজার হাজার মানুষ নিঃস্ব হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, গত ১১ দিন টানা পানি বৃদ্ধির আজ থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। পানি কমলেও ভাঙ্গন অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ভাঙন প্রতিরোধে জিওব্যাগ ফেলার কাজ চলছে।

তবে নদীপাড়ের মানুষের আশঙ্কা, অপরিকল্পিতভাবে বালি উত্তোলন বন্ধে কার্যকর ও স্থায়ী নদী শাসনের উদ্যোগ না নিলে প্রতি বর্ষায় যমুনার ভয়াল ভাঙনে আরও অসংখ্য পরিবার সর্বস্ব হারাবে। তাদের দাবী, প্রতিবছর সাময়িকভাবে জিওব্যাগ ফেলার পরিবর্তে স্থায়ী নদী শাসন, টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালি উত্তোলন বন্ধ করা হোক।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, নিশ্চিন্তপুর এলাকার ভাঙনরোধে জিওব্যাগ ফেলে জরুরি প্রতিরোধকাজ চলমান রয়েছে। তবে চরাঞ্চলের স্থায়ী সুরক্ষার জন্য বৃহৎ পরিসরের একটি প্রকল্প প্রয়োজন। এ বিষয়ে সমীক্ষা শেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

 

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা