শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ কাবিননামা নেই বলেই উত্তরাধিকার নয়: শ্রীমঙ্গলে সৎভাইদের বিরুদ্ধে এতিম সন্তানদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ বিধবার

কাবিননামা নেই বলেই উত্তরাধিকার নয়: শ্রীমঙ্গলে সৎভাইদের বিরুদ্ধে এতিম সন্তানদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ বিধবার

শাহাব উদ্দিন আহমেদ, শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি: মৃত স্বামীর সম্পত্তিতে সন্তানদের উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এক বিধবা নারী। গত শনিবার (১ আগস্ট) তিন সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরের সুরভী আবাসিক এলাকার বাসিন্দা রহিমা বেগম। তিনি অভিযোগ করেন, স্বামীর মৃত্যুর পর প্রথম স্ত্রীর সন্তানরা তাঁকে ও তাঁর সন্তানদের স্বামীর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে রহিমা বেগম জানান, ২০০৫ সালে শহরের সুইনগড় এলাকার হাজি ইয়াকুব আলী খাঁনের সঙ্গে ইসলামি রীতিতে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের সময় তাঁর স্বামীর আরও দুই স্ত্রী ছিলেন। প্রথম স্ত্রীর তিন ছেলে ও দুই মেয়ে এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর স্বামী শহরের সুরভীপাড়া এলাকায় চার শতক জমির ওপর কেনা একটি বাড়িতে তাঁকে নিয়ে সংসার শুরু করেন। ২০১৪ সালের মে মাসে ইয়াকুব আলী খাঁন মারা যান। ওই সংসারে তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে বলে জানান রহিমা।
তিনি বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় তাঁকে মাসিক পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল স্বামীর প্রথম স্ত্রীর ছেলে মনজুর আলী খাঁনকে। কিন্তু ২০২৩ সালে সেই টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর মধ্যে গত রমজান মাসে মনজুর আলী খাঁন মারা যান।
রহিমা বেগমের অভিযোগ, সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন, তাঁর স্বামীর প্রথম স্ত্রীর বড় ছেলে জুনাব আলী খাঁন ও ছোট ছেলে সাহাদাত আলী খাঁন তাঁর সন্তানদের পিতার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে এফিডেভিট করে একটি ওয়ারিশনামা তৈরি করেছেন। এ বিষয়ে জানতে গত ৩১ মে সকালে তাঁর বড় ছেলে রাশেদ আলী খাঁন সৎভাইদের বাসায় যান। তিনি দাবি করেন, সে সময় জুনাব আলী খাঁন ও সাহাদাত আলী খাঁন তাঁর ছেলেদের ভাই হিসেবে স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁর ছেলেকে মারতে উদ্যত হন তাঁরা এবং সম্পত্তি কীভাবে পাওয়া যায় তা দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। একই দিন সন্ধ্যায় শহরে যাওয়ার পথে জুনাব আলী খাঁন, সাহাদাত আলী খাঁন এবং তাঁদের ভাইয়ের ছেলে ইমন ও জীবন তাঁদের মারধর ও হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা করেছেন। এ ছাড়া সম্পত্তির বৈধ দাবি নিয়ে আরও দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানান রহিমা বেগম।
তিনি বলেন, বিয়ের রেজিস্ট্রি কাবিননামা না থাকার সুযোগ নিয়ে প্রথম পক্ষের ছেলেরা তাঁর সন্তানদের পিতার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছেন। তবে হাজি ইয়াকুব আলী খাঁন যে তাঁর স্বামী ছিলেন, তার পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ারিশ সনদ, টিকা কার্ড ও পৌরসভার নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন সরকারি কাগজপত্রে স্বামী হিসেবে ইয়াকুব আলী খাঁনের নাম উল্লেখ রয়েছে বলে জানান রহিমা।
আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ২০০৫ সালে স্বামীর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রথম পক্ষের ছেলেরা ৮০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন। ওই ঘটনায় একই বছর তাঁর স্বামী তিন ছেলেকে ত্যাজ্য ঘোষণা করেন। অথচ তাঁরাই এখন এতিম সন্তানদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
রহিমা বেগম বলেন, ‘আমি একজন প্রতিবন্ধী নারী। অনেক কষ্ট করে ছেলেমেয়েদের নিয়ে জীবন চালাচ্ছি। স্বামীর সম্পত্তির ওপর আমার কোনো লোভ নেই। কিন্তু পিতার সম্পত্তিতে এতিম ছেলেমেয়েদের হক রয়েছে।’ সেই অধিকার থেকেই তাঁর সন্তানদের বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইয়াকুব আলী খাঁনের প্রথম স্ত্রীর ছোট ছেলে সাহাদাত আলী খাঁন প্রথমে রহিমা বেগম তাঁর বাবার স্ত্রী বলে অস্বীকৃতি জানান। পরে তিনি এই রিপোর্টারকে বলেন, ‘রহিমা বেগম সত্যি যদি আমার বাবার স্ত্রী হয়ে থাকেন, তাহলে আমাদের কাছে আসুক, আমরা পারিবারিকভাবে বিষয়টা দেখে দেবো।’

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা