শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ মৃত মুরগি বিক্রির অভিযোগ ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান: শ্রীমঙ্গলে ‘ফ্যামিলি বাজার’ স্বত্বাধিকারীর সংবাদ সম্মেলন

মৃত মুরগি বিক্রির অভিযোগ ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান: শ্রীমঙ্গলে ‘ফ্যামিলি বাজার’ স্বত্বাধিকারীর সংবাদ সম্মেলন

শাহাব উদ্দিন আহমদ, শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরের নতুন বাজারস্থ ‘ফ্যামিলি বাজার’-এ মৃত মুরগি বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো তথ্যকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মাসুমুর রশিদ মাসুম। প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা বন্ধেরও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টায় শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল পোল্ট্রি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাবিবুর রহমান ও ফল ব্যবসায়ী হারুন অর রশীদ হারুন।

লিখিত বক্তব্যে মাসুমুর রশিদ জানান, তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটিতে ব্রয়লার, কক, ডিম ও প্রক্রিয়াজাত মাংস বিক্রি করা হয়। গত ১৩ আগস্ট মৌলভীবাজার জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মৃত মুরগি বিক্রির অভিযোগে তার প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে। দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তিনি ওই জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।

তার অভিযোগ, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযোগকারী হিসেবে উল্লেখ করা রোমানা আক্তার শিপাসহ কয়েকজন তার কোনো বক্তব্য না নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একতরফাভাবে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছেন। এতে তার ব্যবসায়িক সুনাম নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার ধারাবাহিক বর্ণনা দিয়ে মাসুমুর রশিদ বলেন, গত ২১ জুন কোনো বিষয়বস্তু উল্লেখ না করেই ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর থেকে তাকে কার্যালয়ে হাজির হওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়। ওই নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানের একজন প্রতিনিধি অধিদপ্তরের কার্যালয়ে গেলে সেখানে রোমানা আক্তার শিপার ধারণ করা একটি ভিডিও দেখানো হয়। তার দাবি, ওই ভিডিওতে দিনের বেলায় তিনি প্রতিষ্ঠানে এসে কর্মচারীদের কাছে মৃত মুরগি আছে কি না জানতে চান এবং ১২০ টাকায় তিনটি মৃত মুরগি কেনার প্রস্তাব দেন।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের জানানো হয়, অতিরিক্ত গরম বা বিরূপ আবহাওয়ায় বিক্রয় প্রক্রিয়া চলাকালে কখনো কখনো দু-একটি মুরগি মারা যেতে পারে এবং কর্মচারীরা সেগুলো বিক্রিযোগ্য মুরগি থেকে আলাদা করে রাখেন। মাসুমুর রশিদের ভাষ্য, কিছু মানুষ গৃহপালিত কুকুরের খাবার ও চিড়িয়াখানার পশুখাদ্য হিসেবে স্বল্প মূল্যে কর্মচারীদের কাছ থেকে ওই মৃত মুরগি নিয়ে যান; এ ধরনের লেনদেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার অংশ নয় এবং এর অর্থ কর্মচারীরাই গ্রহণ করেন।

তিনি জানান, পরবর্তীতে ১৩ আগস্ট পুনরায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলে নির্ধারিত দিনে তিনি অধিদপ্তরের কার্যালয়ে উপস্থিত হন এবং ওই ভিডিওর ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের অবহেলার দায়ে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় কর্মকর্তারা ব্যবসা পরিচালনায় আরও সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বিশেষ করে কর্মচারীদের কাছ থেকে সংগৃহীত মৃত মুরগি কোনো অসাধু ব্যক্তি হোটেল-রেস্তোরাঁয় বিক্রি করে দিতে পারে—এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

মাসুমুর রশিদের অভিযোগ, জরিমানার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তার ভাষ্য, রোমানা আক্তার শিপা নিজের ফেসবুক আইডি থেকে তার প্রতিষ্ঠানে মৃত মুরগি বিক্রি হচ্ছে বলে প্রচার চালান এবং পরে আরও কয়েকজন একই ধরনের তথ্য ছড়িয়ে দিলে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়।

প্রায় ২৫ বছর ধরে শ্রীমঙ্গলে ব্যবসা পরিচালনা করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সুনাম নষ্ট করতে কিছু প্রতিদ্বন্দ্বী নানা ধরনের অপতৎপরতা চালিয়ে আসছেন। ১৩ আগস্টের ঘটনাটিও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তার যুক্তি, কেউ যদি অবৈধভাবে মৃত মুরগির ব্যবসা করতেন, তাহলে প্রকাশ্য দিবালোকে এসে কোনো ব্যক্তি ‘মরা মুরগি আছে কি না’ জানতে চাইতেন না কিংবা প্রকাশ্যে তা কেনার প্রস্তাব দিতেন না।

এ প্রসঙ্গে পুরোনো একটি ঘটনার উল্লেখ করে মাসুমুর রশিদ জানান, প্রায় ছয় মাস আগে সন্ধ্যায় এক ব্যক্তি প্লাস্টিকের বস্তায় প্রায় ২০ কেজি কাটা গরুর মাংস নিয়ে এসে তার প্রতিষ্ঠানে বিক্রির প্রস্তাব দেন। বাইরে থেকে মাংস কেনা বা বিক্রি করা হয় না জানিয়ে ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়। তার দাবি, ঠিক ওই সময় শ্রীমঙ্গলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দোকানে উপস্থিত হন এবং সেখানে থাকা মাংস দুর্গন্ধযুক্ত ও খাওয়ার অনুপযোগী হিসেবে শনাক্ত হয়। এ সময় মাংস নিয়ে আসা ব্যক্তি কৌশলে পালিয়ে যান। পরে ওই মাংস দোকানে রাখার দায়ে তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং মাংস জব্দ করা হয় বলে জানান তিনি। পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্নভাবে ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত ও খুঁজে বের করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার সন্দেহ, কোনো ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বী বা বিরোধী পক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে ওই ব্যক্তিকে পাঠিয়ে থাকতে পারেন।

রোমানা আক্তার শিপার বিরুদ্ধে আরও একটি অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এর আগে তিনি দোকানে মুরগি কিনতে এসে মূল্য পরিশোধের সময় সাংবাদিকতার পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছিলেন এবং কম দামে দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় সাংবাদিক হিসেবে ‘দেখে নেওয়ার’ প্রচ্ছন্ন হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনে মাসুমুর রশিদ বলেন, “সার্বিকভাবে আমি মনে করি, রোমানা আক্তার শিপা উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমার এবং আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করতে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”

কোনো ব্যক্তি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সঠিক তথ্য যাচাই না করে মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর প্রচার না চালাতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে রোমানা আক্তার শিপার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা