শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ ৪০ ঘণ্টা পর বগুড়ার শজিমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার, ছাত্রদলের ৫ নেতা বহিষ্কার

৪০ ঘণ্টা পর বগুড়ার শজিমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার, ছাত্রদলের ৫ নেতা বহিষ্কার

সাইফুল ইসলাম, বগুড়া অফিস: বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে স্বজনদের সংঘর্ষের ঘটনায় ৪০ ঘণ্টা পর কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। হাসপাতালে নিরাপত্তা জোরদার এবং হামলার ঘটনায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পাঁচ নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের পর ০৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বিকালে ৩টায় তারা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেন।

৪০ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালনের পর বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় শজিমেক হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, বিএনপি ও ছাত্রদলের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সাড়ে তিন ঘণ্টার বৈঠক শেষে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। বৈঠকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে আলোচনা হয়।

পরে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ মঞ্জুর-এ-মোর্শেদ বলেন, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বৈঠক হয়েছে। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবির মধ্যে বহিরাগত হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দলীয় শাস্তি নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালে আর্মড আনসার মোতায়েন এবং সার্বক্ষণিক পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এসব আশ্বাসের ভিত্তিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা সাময়িকভাবে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছেন। জরুরি বৈঠকে বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, বগুড়া জেলা পরিষদের প্রশাসক এ.কে.এম. আহসানুল তৈয়ব জাকির, জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, পুলিশ সুপার মীর্জা সায়েম মাহমুদ, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডাঃ প্রফেসর মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, বর্তমান অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ মো. ওয়াদুদুল হক তরফদার, হাসপাতালের উপপরিচালক ডাঃ মঞ্জুর-এ-মোর্শেদ, বগুড়া মহানগর বিএনপির সভাপতি এ্যাড. হামিদুল হক চৌধরী হিরু, বগুড়া সদও উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেল, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) চিকিৎসকদের প্রতিনিধি ও বগুড়া জেলা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ।

বৈঠকে হাসপাতালের নিরাপত্তা, হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং চিকিৎসকদের কর্মপরিবেশ নিয়ে আলোচনা হয়। পরে হামলার ঘটনায় দলীয় শাস্তি ও হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদারের আশ্বাস পাওয়ার পর ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতি সাময়িকভাবে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাতে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজন ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করে। ঘটনার পর নিজেদের নিরাপত্তাসহ কয়েকটি দাবিতে রাত ১২টা থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।

ছাত্রদলের পাঁচ নেতা বহিষ্কার: বৈঠক চলার সময় বগুড়া শহর ছাত্রদল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পাঁচ নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের কথা জানায়। বহিষ্কৃত নেতারা হলেন বগুড়া শহর ছাত্রদলের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের আহ্বায়ক মো. নাফিউল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মনির হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. প্রান্ত ইসলাম, সদস্য রাকিবুল হাসান রাকিব এবং ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শিহাব।

বৃহস্পতিবার দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বগুড়া শহর ছাত্রদলের সভাপতি এস এম রাঙ্গা ও সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান রিমন এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত: ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শজিমেক হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে আব্দুল মালেক (৫৫) নামের এক রোগীর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের সংঘর্ষ হয়। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অভিযোগ, রোগীর স্বজনেরা বার্মিজ চাকু ও রড নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এতে অন্তত ২১ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক আহত হন। এ সময় হাসপাতালের চিকিৎসাসামগ্রীও ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় রাতে হাসপাতালে ভাঙচুর ও চুরির অভিযোগে সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করা হয়। পুলিশ এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।

বহির্বিভাগের সেবা বন্ধ, ভোগান্তিতে রোগীরা: হামলার প্রতিবাদ এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তার দাবিতে ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাত থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। বৃহস্পতিবার সকালে তারা হাসপাতালের বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টার বন্ধ করে দেয় ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। এতে দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা শত শত রোগী ভোগান্তিতে পড়েন। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সেবা চালু ছিল।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা