★গুলিশাখালীর কলাগাছিয়ায় ভাঙা লোহার পুলে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার, কৃষিকাজে চরম ভোগান্তি, ★জনদুর্ভোগের শিকার এই গ্রামের সকল পেশাজীবী মানুষ।
আমতলী (বরগুনা) থেকে এসএম সুমন রশিদ : বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কলাগাছিয়া গ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের খাল খনন প্রকল্পের কাজ মানুষের জন্য নতুন দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খালটি সম্প্রসারণের পর উত্তর ও দক্ষিণ পাড়ের মানুষের যাতায়াত যেমন কঠিন হয়ে পড়েছে, তেমনি কৃষিকাজের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আনা-নেওয়াতেও দেখা দিয়েছে বড় ধরনের বাধা। এতে পুরুষের পাশাপাশি নারী কৃষকরাও চাষাবাদ করতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।খাল খনন বা সম্প্রসারণের ফলে পানি নিষ্কাশন ও কৃষিতে সুবিধা হওয়ার কথা থাকলেও মানুষের চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় তা এখন নতুন সংকট তৈরি করেছে। খাল বড় করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্থানে টেকসই সেতু বা কালভার্ট নির্মাণ করা হলে কৃষক, শিক্ষার্থী, নারী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কলাগাছিয়া গ্রামের মাদবরবাড়ীর পুল এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি খাল রয়েছে। কয়েকশ মানুষের বসবাসের এ গ্রামের দুই পাশের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের চলাচলের অন্যতম মাধ্যম ছিল ছোট একটি লোহার পুল। খালটি ছোট থাকায় ওই পুল দিয়ে কৃষিকাজে ব্যবহৃত টিলার, গরু-মহিষ, ধান কাটা ও রোপণের যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম এক পাশ থেকে অন্য পাশে নেওয়া যেত।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের খালটি বড় করে খনন করায় পুরোনো ও ভাঙাচোরা লোহার পুলটি এখন আর আগের মতো ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রায় ৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের পুলটি দিয়ে কৃষি যন্ত্রপাতি ও গবাদিপশু পারাপার করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে খালের দুই পাড়ের কৃষকদের অতিরিক্ত পথ ঘুরে জমিতে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ দুটোই বাড়ছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, আগে খালের ওপরের পুলটি ব্যবহার করে সহজেই এক পাশের জমি থেকে অন্য পাশে যাওয়া যেত। ধান রোপণ, ধান কাটা, চাষের জমিতে সার-বীজ নেওয়া কিংবা কৃষিযন্ত্র আনা-নেওয়া—সবকিছুই করা সম্ভব হতো। বর্তমানে পুলটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় অনেকেই কৃষিকাজে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নিয়ে যেতে পারছেন না। ফলে চাষাবাদের মৌসুমে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন কৃষকরা।
স্থানীয় নারীরাও এ সমস্যার বাইরে নন। পরিবারের কৃষিকাজে সরাসরি যুক্ত নারীদের অনেককে জমিতে যেতে বা কৃষিকাজের উপকরণ নিতে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। খাল পারাপারের নিরাপদ ব্যবস্থা না থাকায় অনেক সময় তাদের দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হয়।
এদিকে একই এলাকার মোল্লাবাড়ীর লোহার পুলটিও এখন কয়েকশ মানুষের একমাত্র ভরসা। স্থানীয়দের ভাষ্য, এ পুল দিয়ে কাদের মোল্লা স্কুল ও একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন যাতায়াত করে। এছাড়া কলাগাছিয়া বাজার, গুলিশাখালী বাজার, গোজখালী বাজার, খেকুয়ানী বাজার ও মহিষকাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় যেতে এই পুল ব্যবহার করেন স্থানীয়রা। একসময় লঞ্চে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও এ পথটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় হলো, জরুরি রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রেও এই পুলের ওপর নির্ভর করতে হয় স্থানীয়দের। পুলটি দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অসুস্থ রোগী নিয়ে যাতায়াতের সময় আতঙ্কে থাকতে হয় স্বজনদের।
কলাগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী মো. শাহআলম মোল্লা বলেন, আমাদের পারাপারের জন্য একমাত্র মাধ্যমই হলো এই মোল্লাবাড়ীর পুল। কয়েকশ ছেলে-মেয়ে এই পুল দিয়ে স্কুল ও মাদ্রাসায় যাতায়াত করে। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও এই পুলই আমাদের একমাত্র ভরসা। প্রায় ২০ বছর ধরে অনেক চেয়ারম্যান-মেম্বর দায়িত্বে ছিলেন, কিন্তু আদৌ তারা স্থায়ী কোনো উন্নয়ন করেননি।
এ বিষয় গুলিশাখালী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ রফিক বিশ্বাস বলেন,খাল খনন বা সম্প্রসারণের ফলে পানি নিষ্কাশন ও কৃষিতে সুবিধা হওয়ার কথা থাকলেও মানুষের চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় তা এখন নতুন সংকট তৈরি করেছে। খাল বড় করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্থানে টেকসই সেতু বা কালভার্ট নির্মাণ করা হলে কৃষক, শিক্ষার্থী, নারী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে। এছাড়াও রফিক বিশ্বাস আরও দাবী করে বলেন, এসিড সরকারের আমলে আমরা কোন উন্নয়নের মুখ দেখতে পারিনি। আজ আমাদের দল বিএনপি ক্ষমতায় আমরা যদি উন্নয়নের ছোঁয়া লাগাতে না পারি তাহলে আমাদের বিএনপিকে মানুষ প্রত্যাখ্যান করবে। সেজন্য বিএনপি’র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষদের কাছে জোর দাবি আমরা যেন উন্নয়ন করে আমরা জনসাধারণের কাছে আস্থা তৈরি করতে পারি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মাদবরবাড়ীর পুল ও মোল্লাবাড়ীর লোহার পুলের বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। বিশেষ করে কৃষি মৌসুমে টিলার, ধান কাটার মেশিন ও অন্যান্য কৃষি সরঞ্জাম পারাপারের উপযোগী একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
