মোঃমনজুর মোল্লা , ঢাকা : বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ আয়োজিত জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা থেকে বাছাইকৃত সেরা ৩০৬ জন উদীয়মান অ্যাথলেটকে নিয়ে শুরু হয়েছে ৪০ দিনব্যাপী নিবিড় প্রশিক্ষণ ক্যাম্প। আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলেট তৈরির লক্ষ্যে বিকেএসপি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই বিশেষ শিবিরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
অনুষ্ঠানে জাতীয় দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড়, দক্ষ প্রশিক্ষক ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য ও উদ্দীপনা
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নিজের ক্রীড়া জীবনের স্মৃতিচারণ করে বিকেএসপিকে দেশের প্রতিটি খেলোয়াড়ের আবেগ ও সাফল্যের ভিত্তিভূমি হিসেবে বর্ণনা করেন। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা তরুণ অ্যাথলেটদের অনুপ্রাণিত করে তিনি বলেন, একাগ্রতা, পরিশ্রম এবং অদম্য স্বপ্নের জোরে সব বাধা অতিক্রম করা সম্ভব।
অতীতের নানা লড়াই-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি তরুণদের দেশপ্রেমিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান। প্রতিমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার এসব প্রতিভাবান অ্যাথলেট ও তাদের পরিবারের অভিভাবক হিসেবে সবসময় পাশে থাকবে।
দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও শিক্ষা নিশ্চিতকরণ
তৃণমূল থেকে উঠে আসা এসব ক্রীড়াবিদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে বিশেষ কিছু পদক্ষেপের ঘোষণা দেন প্রতিমন্ত্রী।
* দীর্ঘমেয়াদী পরিচর্যা: এই আয়োজন শুধু ৪০ দিনের ক্যাম্পে সীমাবদ্ধ থাকবে না। নির্বাচিত মেধাবী অ্যাথলেটদের বিকেএসপি ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার আওতায় আনা হবে এবং জাতীয়-আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত নিবিড় মনিটরিং করা হবে।
* শিক্ষার নিশ্চয়তা: অ্যাথলেটদের সাধারণ শিক্ষা যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য বিশ্বমানের ক্রীড়া প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বিকেএসপির মাধ্যমে আধুনিক শিক্ষার পূর্ণ নিশ্চয়তা দেওয়া হচ্ছে।
পেশাগত স্বীকৃতি ও নতুন উদ্যোগ ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে স্থায়ী ভিত্তি দিতে সরকারের গৃহীত নতুন উদ্যোগগুলোর কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান।
* খেলোয়াড়দের সামাজিক ও পেশাগত স্বীকৃতি নিশ্চিতে ইতোমধ্যে ক্রীড়া ভাতা চালু করা হয়েছে।
* নিবন্ধিত অ্যাথলেটদের জন্য বিশেষ ‘ক্রীড়া কার্ড’ প্রদান করা হয়েছে।
নতুন প্রজন্মের এই ৩০৬ জন অ্যাথলেটকে আগামীর ক্রীড়া অগ্রযাত্রার ‘প্রথম সৈনিক’ হিসেবে অভিহিত করে প্রতিমন্ত্রী প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, এদের মধ্য থেকেই বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের পতাকা উঁচিয়ে ধরার মতো ভবিষ্যতের জাতীয় তারকা তৈরি হবে।
