স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির কারণে আমরা যে স্বস্তির ও মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম, সেই স্বপ্নগুলো হারাতে বসেছি। সরকারকে এ বিষয়ে খুব দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপির সঙ্গে বাংলাদেশ প্যাকেজিং অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএমইএ) নেতাদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘দু’দিন আগে মিরপুরের রাড্ডা একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে বর্বরোচিত হামলা হয়েছে এবং সেটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গত রাতে আমরা দেখেছি, মিরপুরের ইসিবিতে একটি আবাসিক এলাকায় হামলা, গুলিবর্ষণ ও লুটপাটের মতো ঘটনা ঘটেছে।’
তিনি বলেন, ‘আজকের এই প্রোগ্রামের সঙ্গে যেহেতু এটা খুব প্রাসঙ্গিক নয়, তবুও এটা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিরই প্রমাণ। মিডিয়াতে যেভাবে আসছে, যারা সরকারি দলে থাকেন, শাসকদলে যারা থাকেন, এইসব ঘটনার সঙ্গে প্র্যাকটিক্যালি তারা যে জড়িত, এটা সব গণমাধ্যমে আসছে।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘খুব দুঃখজনক স্বাস্থ্যের খাতে, স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে, পুষ্টির সঙ্গে যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান জড়িত, মানবসেবার সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠান জড়িত, সেখানে স্থানীয় রাজনৈতিক একটা ব্যাড ইনটেনশনে যে আক্রোশমূলক আচরণ করা হয়েছে, সব মহলে এটা নিন্দিত হয়েছে, ধিকৃত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘মাত্র সরকারের কেবল ছয় মাস হলো, এক্ষুনি যদি ল অ্যান্ড অর্ডার সিচুয়েশন এইভাবে ডিটেরিয়েট করতে থাকে, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য কোনো খাতের ওপর কখন আক্রমণ হবে, জাতি তো উদ্বিগ্ন। এ ব্যাপারে সরকারের খুব তড়িৎ পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’
‘আমরা এটার তীব্র নিন্দা করেছি। সেখানে জনপ্রতিনিধি আছে, সরকার আছে, ল এনফোর্সিং এজেন্সি আছে, ইন্টেলিজেন্স আছে। এইভাবে একটা প্রতিষ্ঠানকে ভেঙেচুরে তছনছ করে দেওয়া হয়েছে। এগুলো তো আমাদের পেছনের দিনের সেই সহিংসতার কথাগুলো স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘২৪-এর অভ্যুত্থানের পরে আমরা যে স্বস্তির এবং মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম, সে স্বপ্নগুলো কিন্তু হারাতে বসেছি আমরা। এজন্য আমরা সবাই কিন্তু কনসার্ন। আমরা আজকে প্রশ্নের কারণে এ কথাটা বলছি যে, সরকারের ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।’
তিনি আরও বলেন, যারা স্থানীয়ভাবে এই সমস্ত মব তৈরি করে, মাসলম্যান তৈরি করে আবার পুরোনো সেই দিন ফিরিয়ে আনার অপচেষ্টা করছেন, জনগণ কিন্তু তাদের প্রশ্রয় দেবে না। তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তাদের আমরা বিরত হতে বলব।’
তিনি বলেন, ‘এই সেক্টরের সঙ্গে প্র্যাকটিক্যালি, একেবারে সরাসরি এক্সচেঞ্জ অব ভিউস আজকেই কিন্তু প্রথম। অনেক নতুন নতুন তথ্য উনারা দিয়েছেন। বাংলাদেশে আরএমজি সেক্টরের সঙ্গে এটার যে কত ক্লোজ রিলেশন, উনারা কিছু আফসোস ব্যক্ত করেছেন সরকারের এবং নানানভাবে যে কো-অপারেশনটা পাওয়া দরকার, সেটা কিন্তু এখনো উনারা সেইভাবে পাচ্ছেন না।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমিরে জামায়াত কথা দিয়েছেন যে, সেক্ষেত্রে যথেষ্ট ভূমিকা রাখবার সুযোগ আছে। তিনি সে ভূমিকা আমাদের রাখবেন। গ্যাস-বিদ্যুতের যে সংকট, যে কারণে সব শিল্পের ওপর প্রভাব পড়েছে, একইভাবে সেই প্রসঙ্গটাও কিন্তু উনারা আজকে মতবিনিময় সভায় এনেছেন। এটাও আমাদের জাতীয় বড় সংকট।’
‘আমরা শুধু ব্যবসা করতে চাই, রাজনীতি নিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না’
বাংলাদেশ প্যাকেজিং অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএমইএ) সভাপতি মো. শাহরিয়ার বলেছেন, ৫ আগস্টের পরে বর্তমান যে প্রধানমন্ত্রী আছেন, তার সঙ্গে আমাদের ব্যক্তিগতভাবে দেখা হয়েছিল। তখন তিনিও আমাদের শিল্প, প্যাকেজিং ও অ্যাক্সেসরিজ শিল্প নিয়ে বিশদ জ্ঞান রাখেন। তিনিও বলেছেন, এই সেক্টর নিয়ে আপনারা কাজ করবেন।’
তিনি বলেন, ‘আজকে আমিরে জামায়াত, উনি বিরোধীদলের নেতা, আমাদের ডেকেছেন, শুনেছেন। আমরা বলেছি, আমরা চাই আমাদের সেক্টর নিয়ে যারা আছি, আমরা ব্যবসায়ী। আমরা শুধু ব্যবসা করতে চাই। রাজনীতি নিয়ে আমরা কোনো কথা বলতে চাই না। কেননা রাজনীতির কথা বলার কাজ রাজনীতিবিদদের, কোনো ব্যবসায়ীর না।’
বিপিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘আমরা সেখানেই থাকতে চাই। আমরা অতীতকে পুনরাবৃত্তি করতে চাই না। আমরা ব্যবসায়িক সংগঠন, আমরা ব্যবসা নিয়ে কাজ করতে চাই। বর্তমান যে সরকারি দল আছে, তাদের আমরা সবসময় সহযোগিতা করেছি। একটি দল মাত্র ছয় মাস হলো সরকার গঠন করেছে। তাদের সময় দেওয়া দরকার। আমরা তাদের সময় দিচ্ছি এবং সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিরোধী দলও একই কথা বলেছে। আমরাও সরকারকে সহযোগিতা করছি। আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে দেশ গঠন করব।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ব্যবসায়ী সমাজ, আমরা শুধু ব্যবসা নিয়ে থাকতে চাই, দেশের অর্থনীতি নিয়ে থাকতে চাই, কর্মসংস্থান নিয়ে থাকতে চাই। রাজনীতির যে ব্যাপার আছে, রাজনীতিবিদ যারা আছেন, তারাই রাজনীতি করা উচিত। ব্যবসার সঙ্গে রাজনীতি সংযুক্ত নয়।’
এসময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, নুরুল ইসলাম বুলবুলসহ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও মহানগরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
