রবিবার | সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশঢাকা আশুলিয়ায় রকেট এজেন্টের ৪৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২

আশুলিয়ায় রকেট এজেন্টের ৪৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২

আশুলিয়া থেকে জাহাঙ্গীর আলম রাজু : আশুলিয়ায় ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ‘রকেট’-এর এক এজেন্টের ৪৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মোঃ শরিফুল ইসলাম সজল ও তাঁর সহযোগী মোঃ রাব্বি হাসান খান। এ ঘটনায় সজলের কাছ থেকে নগদ আড়াই লাখ টাকা এবং তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও ১২ লাখ ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা টাকার পরিমাণ ১৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম পিপিএম-সেবা।পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার লাবনী রেস্টুরেন্টের পাশে মোঃ রফিকের রকেট এজেন্সিতে ডিএসআর (ডিস্ট্রিবিউটর সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ) হিসেবে চাকরি করতেন সজল, রাব্বি হাসান খান ও তাঁদের আরও এক সহযোগী। চাকরির সুবাদে এজেন্টের টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়া এবং ডিলারদের মধ্যে অর্থ বিতরণের দায়িত্ব পালন করতেন তাঁরা।

অভিযোগ রয়েছে,প্রথম দফায় টাকা আত্মসাতের জন্য একই রকম দুটি ব্যাগ ব্যবহারের পরিকল্পনা করেন তাঁরা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার সময় প্রকৃত টাকার ব্যাগের পাশে একই ধরনের আরেকটি ব্যাগ রাখা হয়। পরে কৌশলে প্রকৃত টাকার ব্যাগ নিয়ে সজলের সহযোগীরা সেখান থেকে চলে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সজল নিজেই বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ৬৫(৩)২৬ তবে পরবর্তী তদন্তে মামলার বাদী সজলের ভূমিকা নিয়েও সন্দেহের সৃষ্টি হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, প্রথম ঘটনার পর একই ধরনের কৌশলে আবারও টাকা আত্মসাতের পরিকল্পনা করেন তাঁরা। দ্বিতীয় ঘটনায় রকেট এজেন্টের কাছ থেকে ৪৩ লাখ টাকা সংগ্রহ করে আশপাশের ডিলারদের মধ্যে বিতরণের কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত স্থানে টাকা বিতরণ না করে সজল ও তাঁর সহযোগীরা ওই অর্থ নিয়ে গাজীপুরে এক বন্ধুর বাসায় যান। সেখানে টাকা ভাগ-বাঁটোয়ারা করা হয় বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। পরে সজল তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা অবস্থান করেন। এরপর আত্মগোপনে চলে যান। বিদেশে চলে গেছেন-এমন ধারণা তৈরি করতেই তিনি এ কৌশল নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র।

তবে পুলিশের প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানে সজলের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে আশুলিয়া থানা পুলিশের একটি দল মানিকগঞ্জ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

এ সময় তাঁর কাছ থেকে নগদ আড়াই লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী সময়ে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি বাড়ির কক্ষ থেকে আরও ১২ লাখ ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে সজল রকেট এজেন্টের টাকা আত্মসাতের দুটি ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৬ সেপ্টেম্বর আশুলিয়ার ডেন্ডাবর-পলাশবাড়ী এলাকার ইনসাফ ফ্যাশন ওয়ে কারখানা থেকে রাব্বি হাসান খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই কারখানার কোয়ালিটি বিভাগে চাকরি করতেন বলে জানা গেছে। কারখানাটির মালিক ভয়েস অফ জুলাই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মোঃ মোস্তফা কামাল মুকুল। পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে রাব্বি হাসানও ওই দুটি ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে, গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জারি করা এক জরুরি নোটিশে রাব্বি হাসান খানকে ভয়েস অফ জুলাইয়ের রংপুর জেলা আহ্বায়ক কমিটির সাধারণ সদস্য পদসহ সংগঠনের সব সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনের কার্যক্রম, তথ্য আদান-প্রদান ও লেনদেনসংক্রান্ত দায়িত্ব থেকেও তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ রয়েছে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম পিপিএম-সেবা বলেন,“রকেট এজেন্টের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং আত্মসাৎ করা টাকা উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে। প্রযুক্তির সহায়তায় সজলকে মানিকগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপর এক আসামিকে গ্রেপ্তার ও টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত এবং আইনগত ব্যবস্থা নিতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”তবে এ ঘটনায় অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। মামলার তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা ও জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা