রামগড় (খাগড়াছড়ি) থেকে মো.মাসুদ রানা : রামগড় – বারৈয়ারহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের কয়লা–নয়টিলা এলাকায় সন্ধ্যা নামলেই আতঙ্কে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সড়ক ব্যবহারকারীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়ক উন্নয়ন কাজ চলমান থাকায় বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ ও সংকীর্ণ অংশ। ফলে যানবাহন ধীরগতিতে চলার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দুর্বৃত্তরা পথরোধ করে ডাকাতি ও ছিনতাই করছে।
স্থানীয়দের দাবি, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এই এলাকায় প্রায়ই ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। চলন্ত বা ধীরগতির গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ও চালকদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সাসহ গুরুত্বপূর্ণ মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে নিয়মিত যাতায়াতকারী মানুষ বিশেষ করে রাতের বেলায় এই সড়ক ব্যবহার করতে আতঙ্ক বোধ করছেন।
পরিবহন চালক গণি মিয়া জানান, সড়কের উন্নয়ন কাজ চলমান থাকায় যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও বড় বড় খানাখন্দ, কোথাও রাস্তা সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় চালকদের সতর্ক হয়ে ধীরে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। আর এই পরিস্থিতিই অপরাধীদের জন্য সুযোগ তৈরি করছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে রামগড়-বারৈয়ারহাট সড়কের সংশ্লিষ্ট অংশ মিরসরাই ও ফটিকছড়ি উপজেলার আওতাধীন হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, একটি ঘটনা কোন এলাকার আওতাধীন এ ধরনের প্রশাসনিক সীমারেখার কারণে যেন অপরাধীরা কোনোভাবেই সুযোগ না পায়, সে বিষয়ে সমন্বিত নজরদারি প্রয়োজন। স্থানীয়দের প্রশ্ন, কারা এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত এবং কীভাবে তারা বারবার সুযোগ পাচ্ছে—তা খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় বিএনপি নেতা জানান, কয়লা-নয়টিলা এলাকায় সন্ধ্যার পর নিয়মিত পুলিশের টহল জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নজরদারি বৃদ্ধি এবং মিরসরাই–ফটিকছড়ির আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি দ্রুত সড়ক উন্নয়নকাজ শেষ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করারও দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জননিরাপত্তার স্বার্থে এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এমন প্রত্যাশা করছেন সড়ক ব্যবহারকারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
