শুক্রবার | অক্টোবর ২, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ হোটেল কক্ষে রোহিঙ্গা নারীকে জবাই করে হত্যা, যুবককে শনাক্তের চেষ্টা

হোটেল কক্ষে রোহিঙ্গা নারীকে জবাই করে হত্যা, যুবককে শনাক্তের চেষ্টা

কক্সবাজারে থেকে রিয়াজ উদ্দিন : কক্সবাজার শহরের বাস টার্মিনাল এলাকার একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষের ওয়াশরুম থেকে কুলসুমা আক্তার নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত নারী রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৪-এর আশ্রিত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাঁর সঙ্গে থাকা প্রায় দুই বছরের একটি শিশুকেও ওই কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর শহরের প্রবেশদ্বার বাস টার্মিনাল প্রধান সড়কের ‘স্ট্যান্ড পার্ক রিসোর্ট’-এর তৃতীয় তলার ৩০২ নম্বর কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও হোটেল-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কুলসুমা আক্তার মঙ্গলবার ওই কক্ষটি ভাড়া নেন। তাঁর সঙ্গে ছিল প্রায় দুই বছরের একটি শিশু। হোটেলে ওঠার সময় তিনি ঈদগাঁও উপজেলার ভাদিতলা এলাকার একটি ঠিকানা ব্যবহার করেন। পরে পুলিশ তাঁর পরিচয় ও ঠিকানা যাচাই শুরু করলে তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৪-এর আশ্রিত বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া যায়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বুধবার দুপুর থেকে বিকেলের কোনো একসময় এক যুবক ওই কক্ষে প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ পর তিনি কক্ষ থেকে বের হয়ে চলে যান। পরে কক্ষের ওয়াশরুমে কুলসুমার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ওই নারীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে কীভাবে এবং কী কারণে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

হত্যাকাণ্ডের সময় শিশুটি কক্ষেই ছিল। শিশুটির সামনেই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না, সে বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর শিশুটিকে নিরাপদ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

খবর পেয়ে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে কক্ষটি ঘিরে ফেলে। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেন।

মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর কথা রয়েছে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। কক্ষে প্রবেশ ও বের হওয়া যুবককে শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ। একই সঙ্গে হোটেলে সংরক্ষিত অতিথির তথ্য, কক্ষের প্রবেশ ও বের হওয়ার বিষয় এবং ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

নিহতের হোটেলে ওঠার সময় দেওয়া পরিচয় ও ঠিকানা নিয়েও তদন্ত করছে পুলিশ। তিনি ঈদগাঁও উপজেলার ভাদিতলা এলাকার ঠিকানা ব্যবহার করলেও প্রাথমিকভাবে তাঁর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থানের তথ্য পাওয়ায় পরিচয় গোপনের বিষয়টি কীভাবে ঘটল, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের পাশাপাশি হোটেল কর্তৃপক্ষের অতিথির পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়াও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। বিশেষ করে হোটেলে ওঠার সময় কী ধরনের পরিচয়পত্র বা তথ্য নেওয়া হয়েছিল এবং তা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কুলসুমা আক্তারকে কে বা কেন হত্যা করেছে, হত্যার আগে ওই যুবক কেন কক্ষে প্রবেশ করেছিলেন, কীভাবে তিনি হোটেল থেকে বেরিয়ে গেলেন এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা