শুক্রবার | অক্টোবর ২, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশঢাকা আশুলিয়ায় ছাত্র-জনতাকে পুড়িয়ে হত্যার সেই ভ্যান উদ্ধার,‘জুলাই জাদুঘরে’ সংরক্ষণের দাবি

আশুলিয়ায় ছাত্র-জনতাকে পুড়িয়ে হত্যার সেই ভ্যান উদ্ধার,‘জুলাই জাদুঘরে’ সংরক্ষণের দাবি

আশুলিয়া প্রতিনিধি : গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে সাভারের আশুলিয়ায় ছাত্র-জনতাকে পুড়িয়ে হত্যার নির্মম ঘটনায় ব্যবহৃত সেই বহুল আলোচিত পুলিশ ভ্যানটির সন্ধান পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন জনচক্ষুর আড়ালে থাকা পুড়ে যাওয়া গাড়িটি বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে একটি প্রশাসনিক জমি উদ্ধার অভিযান চলাকালে উন্মোচিত হয়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় ছাত্র-জনতা ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা ঐতিহাসিক এই নারকীয়তার আলামত হিসেবে গাড়িটিকে নবগঠিত ‘জুলাই জাদুঘরে’ সংরক্ষণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে আশুলিয়ার বাইপাইল ত্রিমোড় এলাকায় জমি উদ্ধারে নামেন আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেলের (ভূমি) সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহিবুল্লাহ আকন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,অভিযান চলাকালে এলাকার একটি অস্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন খালি করার কাজ শুরু হলে এতদিন অলক্ষ্যে পড়ে থাকা পোড়া ভ্যানটি প্রকাশ্যে আসে। মুহূর্তের মধ্যেই সেই হাড়হিম করা স্মৃতি ফিরিয়ে আনে কঙ্কালসার গাড়িটি।

ছাত্র-জনতার ক্ষোভ ও স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি
ভ্যান উদ্ধারের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই বাইপাইল এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ‘জুলাই যোদ্ধা’ ও সাধারণ জনগণ। তারা সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং গাড়িটি জাদুঘরে সংরক্ষণের দাবি উত্থাপন করেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত আন্দোলনকারী আবিদুল আফিফ আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন “আশুলিয়া থানার সামনে ৫ আগস্ট আমাদের ছয়জন ভাইকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল-যার মধ্যে একজন তখনো জীবন্ত অবস্থায় ছটফট করছিলেন। ঘটনার পর থেকেই আমরা গাড়িটির খোঁজ করছিলাম। স্বৈরাচারী শাসন ও পুলিশি নারকীয়তার নির্মম স্মারক হিসেবে এই ভ্যানটিকে অবিলম্বে ‘জুলাই জাদুঘরে’ সংরক্ষণ করতে হবে।”

আরেক আন্দোলনকারী ফয়সাল হোসেন ফাল্গুন বলেন, “শহীদ ভাইদের ত্যাগ ও রক্তের শেষ চিহ্ন লেগে আছে এই ভ্যানে। এটাকে ময়লার মতো ডাম্পিংয়ে ফেলে না রেখে গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস রক্ষার্থে জাদুঘরে রাখাই যুক্তিযুক্ত।”বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম ও আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তরিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।তবে ঘটনাস্থলে সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা ঢাকা জেলার অফিসার ইনচার্জ (রিজার্ভ ফোর্স) শহিদুল সাংবাদিকদের বলেন,মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত: গাড়িটি একটি চলমান ফৌজদারি মামলার প্রধান আলামত হওয়ায় সরাসরি কোথাও হস্তান্তর করা আইনত সম্ভব নয়।

এছাড়া তিনি আরও বলেনমন্ত্রণালয় ও আদালতের নির্দেশ আবশ্যক: এটি কোথাও সরিয়ে নেওয়া বা জাদুঘরে হস্তান্তরের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজ্ঞ আদালতের সুস্পষ্ট আদেশ লাগবে। আপাতত আইনি প্রক্রিয়া মেনেই গাড়িটির সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।উল্লেখ্য,গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মুহূর্তে আশুলিয়া থানার সামনে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে হতাহতদের পুলিশ ভ্যানে স্তূপ করে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ সময় পর সেই আলোচিত ভ্যানটির সন্ধান মেলায় সাভার-আশুলিয়া অঞ্চলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা