সোমবার | অক্টোবর ১৯, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ মাছ কেটেই মাসে আয় ৩০-৪০ হাজার টাকা, চলে ১০ জনের সংসার

মাছ কেটেই মাসে আয় ৩০-৪০ হাজার টাকা, চলে ১০ জনের সংসার

মোহাম্মদ কেফাইতুল ভুঁইয়া, বিজয়নগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: বাজারে প্রতিদিন মাত্র চার ঘণ্টা মাছ কাটার কাজ করে মাসে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় করছেন অর্পণ দাস। এই আয় দিয়েই চলছে তাঁর ১০ সদস্যের সংসার। সন্তানদের পড়াশোনা থেকে শুরু করে পরিবারের ভরণপোষণ—সবকিছুর ব্যয়ভার বহন করছেন তিনি। মাছের ব্যবসা ছেড়ে বাবাকে সঙ্গে নিয়ে মাছ কাটার কাজ শুরু করে এখন এই পেশাতেই স্বাবলম্বী হয়েছেন অর্পণ।

বলছিলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের সিঙ্গারবিল বাজারের মাছ কাটার কারিগর অর্পণ দাসের কথা। প্রায় তিন বছর ধরে তিনি এ বাজারে মাছ কাটার কাজ করছেন। নিজের শ্রম ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে গড়ে তুলেছেন জীবিকা নির্বাহের একটি নির্ভরযোগ্য পথ।

অর্পণ দাস জানান, বড় মাছ প্রতি কেজি ২০ টাকা এবং ছোট দেশি মাছ প্রতি কেজি ৫০ টাকা দরে কাটেন তিনি। প্রতিদিন প্রায় ৭০ থেকে ৮০ কেজি মাছ কাটার কাজ করেন। এতে দৈনিক আয় হয় প্রায় এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা। মাস শেষে সব মিলিয়ে তাঁর আয় দাঁড়ায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকায়। এ আয় দিয়েই পরিবারের ১০ সদস্যের খরচ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

সিঙ্গারবিল বাজারে মাছ কিনতে আসা ক্রেতাদের জন্যও অর্পণের এই উদ্যোগ বেশ সুবিধাজনক হয়ে উঠেছে। মাছ কেনার পর বাজারেই কাটিয়ে বাড়িতে নিয়ে যেতে পারছেন তাঁরা। এতে বাড়িতে মাছ কাটার ঝামেলা কমার পাশাপাশি সময়ও বেঁচে যাচ্ছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে এই সেবা ক্রেতাদের স্বস্তি দিচ্ছে।

বাজারের মাছ ব্যবসায়ীরাও জানান, অর্পণ দাস মাছ কাটার কাজ শুরু করার পর ক্রেতাদের সুবিধা বেড়েছে। বড় মাছ কেনার পর বাজার থেকেই কাটিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকায় ক্রেতারা উপকৃত হচ্ছেন। এতে মাছ কেনাবেচার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

অল্প পুঁজি, কঠোর পরিশ্রম আর নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে অর্পণ দাস দেখিয়েছেন, কাজ ছোট হোক বা বড়—সততা ও পরিশ্রম থাকলে তা দিয়েও পরিবারের দায়িত্ব পালন করা সম্ভব। তাঁর এই উদ্যোগ শুধু ১০ সদস্যের পরিবারের জীবিকার সংস্থানই করছে না, বরং স্থানীয় বাজারে ক্রেতাদের জন্যও তৈরি করেছে বাড়তি সুবিধা।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা