সোমবার | অক্টোবর ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ হবিগঞ্জে মধুমতি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে ভূয়া চিকিৎসক আরিফ আটক

হবিগঞ্জে মধুমতি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে ভূয়া চিকিৎসক আরিফ আটক

লিটন পাঠান, হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জ জেলাজুড়ে ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠছে অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতাল। আর এতে সাধারণ রোগিদের চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেক ভূয়া ডাক্তার। যে কারণে প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছেন সাধারণ রোগিরা। সম্প্রতি বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে জেলার কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতাল থেকে কয়েকজন ভূয়া চিকিৎসকদের আটক করে আইনশৃৃঙ্খলা বাহিনী। পরে তাদেরকে কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়। তবুও এসব ভূয়া চিকিৎসকদের তৎপরতা বেড়েই চলেছে। শহরের আনাছে কানাছে গড়ে উঠা অবৈধ প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোতে চিকিৎসক পরিচয়ে নিয়মিত রোগি দেখছেন তারা। এতে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবী জানান সচেতন মহল। এদিকে, শহরের শায়েস্তানগর ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকার মধুমতি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে মো. আরিফ মিয়া নামে এক ভুয়া চিকিৎসককে আটক করেছে এসআরবি ও জেলা প্রশাসনের যৌথ দল। রোববার (২৫-অক্টোবর) ২০২৬ রাত ৮টায় দিকে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সূত্র জানায়, আরিফ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ডা. মীর মাহবুব রহমান পরিচয়ে তার প্যাড ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছিলেন। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আল নাদরুন বিন আকন ও এসআরবি-৯ এর ক্যাপ্টেন মোশারফের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন এর যৌথ দল মধুমতি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালায়। অভিযানের পূর্বে আরিফ চারজন রোগীকে চিকিৎসা প্রদান করে এবং ডা. মীর মাহবুব রহমানের প্যাডে ঔষধ লিখে দেন। অভিযানকালে প্রশাসন চিকিৎসকের কাগজপত্র দেখতে চাইলে সে চিকিৎসাগত যোগ্যতা ও চিকিৎসাসেবা প্রদানের বৈধ কোন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। পরে তাকে আটক করে প্রশাসন। এরপূর্বেও বিভিন্ন সময়ে প্রশাসন পৃথক পৃথক অভিযানে একাধিক ভুয়া চিকিৎসক আটক করে। পরে তাদেরকে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এর মধ্যে গত নভেম্বরে ঘোষপাড়া এলাকায় র‌্যাব-৯ অভিযান চালিয়ে মমতাজ বেগম রিনা নামের ১ জন ভুয়া নারী চিকিৎসককে আটক করে। গত বছরের ১ জুলাই মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আলী জেনারেল হাসপাতালে নিজেকে ‘প্রফেসর ডাক্তার’ পরিচয় দিয়ে রোগীদের ব্যবস্থা পত্র দেওয়ার অভিযোগে আব্দুর রহমান নামে ১ জন ভুয়া চিকিৎসককে ১ মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই বছরের সেপ্টেম্বরে নবীগঞ্জ শহরের হাসপাতাল রোডে অভিযান চালিয়ে কাজল নাথ নামে ১ জন ভুয়া ডাক্তারকে ৩ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০২০ সালের নভেম্বরে শহরের শায়েস্তানগর এলাকার মুন জেনারেল হাসপাতাল থেকে অন্য ডাক্তারের পরিচিতি ব্যবহার করা মাসুদ করিম নামের ১ জন ভুয়া চিকিৎসককে আটক করে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এসআরবি-৯ এর ক্যাপ্টেন মোশারফ বলেন, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আটক আরিফের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা