রবিবার | নভেম্বর ৮, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ দূর্নীতিবাজ সার্ভেয়ার আসাদুল্যাহকে ফের ভোলার এলএ শাখায় সংযুক্তি কার স্বার্থে.?

জনমনে সমালোচনার ঝড়!

দূর্নীতিবাজ সার্ভেয়ার আসাদুল্যাহকে ফের ভোলার এলএ শাখায় সংযুক্তি কার স্বার্থে.?

মোঃ এরশাদুল ইসলাম আজাদ, ভোলা প্রতিনিধি : ভোলা থেকে ঘুষ ও দূর্নীতির দায়ে গত দুইমাস আগে বদলীকৃত সেই সার্ভেয়ার আসাদুল্যাহকে দুইমাসের ব্যবধানে ফের ভোলার ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখাতেই সংযুক্ত করা হয়েছে। বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারকে ম্যানেজ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুর্নীতিবাজ আসাদুল্যাহ আবারও ভোলার ডিসি অফিসের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় যোগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৮ নভেম্বর) পুনরায় এ শাখায় যোগ দেন তিনি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উক্ত সার্ভেয়ার আসাদুল্যাহর মূল কর্মস্থল ছিলো পিরোজপুরের কাউখালি উপজেলা ভূমি অফিসে। সেখানে থাকাকালীন দূর্নীতির আশ্রয় নিয়ে ৫১ জন স্বচ্ছল ব্যক্তিকে খাসজমি বন্দোবস্ত পাইয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠ তার বিরুদ্ধে।

বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে ভূমি মন্ত্রনালয় শাখা-৩ কর্তৃক তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা (যার নম্বর-১১/২০২৫) রুজু হয়। এরপর তাকে কাউখালি থেকে সরিয়ে ভোলার ডিসি অফিসের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় সংযুক্ত করা হয়। কিন্তু সেখানেও তার দূর্নীতির বিষবৃক্ষে ফল ধরতে থাকে। আসাদুল্যাহর ক্যারিশমা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় তার কাউখালির দূর্নীতির ফাইল ধীরগতিতে চলতে থাকে।

এরিমধ্যে ভোলার ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় আসাদুল্যাহ তার দূর্নীতি আর পাপের সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। ভূক্তভোগী শ্রেণী পেশার লোকজন অভিযোগ করেন-ভোলার ডিসি অফিসের বড় কর্তাবাবুদের সাথে মিলেমিশে তিনি জেলাব্যাপী সরকারের উন্নয়নকাজে অধিগ্রহণ করা জমিগুলোর জন্য মোটাদাগের ঘুষ বানিজ্যের মেশিন চালু করেছেন। জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে যেসব ভূমি মালিকগণ আসাদুল্যাহর ঘুষের চাহিদা মেটাতে পারেন,তাদের ফাইলের হালে পানি মেলে; আর যারা ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানায়,তাদের লাখ টাকা মূল্যের জমিকে হাজার টাকা মূল্য (ভ্যালুয়েশন) দেখিয়ে কাগজ প্রস্তুত করা হয়। ফলে আসাদুল্যাহর অপকর্মের জালে আটকে নি:স্ব হয়ে পড়েন ভোলার হাজারো পরিবার। এমন নির্মমতার অসংখ্য কাহিনী দ্বীপজেলা ভোলার প্রতিটি জনপদে স্বাক্ষী বহন করে আছে।

তথ্য মতে-বিগত ফ্যাসিস্ট জামানা থেকে শুরু করে অদ্য পর্যন্ত ভোলা জেলাব্যাপী হাজারো মানুষের শত শত একর জমি অধিগ্রহণের নামে বিভিন্ন কারসাজি করে সার্ভেয়ার আসাদুল্যাহ শতকোটি টাকার মালিক হয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে-তার পরিবারের সন্তানরা মধ্যপ্রাচ্যে বসবাস করেন। ঢাকায় তার আলিশান সূরম্য প্রাসাদসম বাড়ী,একাধিক ফ্ল্যাট ও শত একর জমিসহ বিশাল বিত্ত্ববৈভবের মালিক তিনি। সরকারি একজন সার্ভেয়ার হয়ে এমন সাম্রাজ্যের মালিক হওয়ার নেপথ্যে একমাত্র ভোলার মানুষের রক্তচোষার ভয়ঙ্কর ইতিহাস লুকিয়ে আছে বলে মনে করছেন জেলার অপরাধ বিশ্লেষকরা।

এদিকে সার্ভেয়ার আসাদল্যাহর বিরুদ্ধে দূর্নীতির বিভাগীয় তদন্তে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। এ ঘটনায় ভূমি মন্ত্রনালয়ের মাঠ প্রশাসন শাখার অতিরিক্ত সচীব নাসরিন জাহান স্বাক্ষরিত এক আদেশে চলতি বছরের (২০২৬ ইং) ২ আগস্ট তার বিরুদ্ধে শাস্তির আদেশ হয়। এরপর তাকে ভোলা থেকে প্রত্যাহার করে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের অফিসে সংযুক্ত করা হয়। সেখানে তার দুইমাস শেষ হতেই তাকে ফের ভোলার ডিসি অফিসের সেই ভূমি অধিগ্রহণ শাখায়ই বসানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ-এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। তিনি আরও স্বীকার করেন যে, “দুর্নীতিবাজরা যেখানেই যাক, তারা তাদের স্বভাবগত অপরাধ থেকে সরে আসে না।

একজন দণ্ডপ্রাপ্ত ও প্রমাণিত দুর্নীতিবাজ সার্ভেয়ারকে কেন বারবার অপরাধের আঁতুড়ঘর ভোলার এলএ শাখায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে—এ নিয়ে এখন পুরো ভোলাজুড়ে চলছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।

স্থানীয়দের প্রশ্ন—”কোন যাদুবলে এবং কার স্বার্থে বারবার এই দুর্নীতিবাজ সার্ভেয়ার আসাদুল্যাহকে ভোলা জেলার গুরুত্বপূর্ণ এলএ শাখায় বসানো হচ্ছে..?
আবার ভূক্তভোগী অনেকেই বলছেন-একজন দন্ডপ্রাপ্ত দূর্ণীতিবাজ সার্ভেয়ার আসাদুল্যাহকে ফের ভোলার ডিসি অফিসের এলএ শাখায় বসানো হলো কার সার্থে…? বিষয়টি এখন ভোলার টক অব দ্য টাউনে পরিনত হয়েছে।

এ বিষয়ে ভোলার সুশীল সমাজের ব্যক্তিগণ বলছেন-প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন মহলের নীরবতা এবং দায়সারা বদলি বাণিজ্য বন্ধ না হলে সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দুদক এ বিষয়ে দ্রুত কঠোর হস্তক্ষেপ না করলে ভূমি অধিগ্রহণ খাত সাধারণ মানুষের জন্য আরও ভয়ংকর হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত সার্ভেয়ার আসাদুল্যাহর সাথে কথা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেব বলেও দাবী করেন।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা