মোঃমনজুর মোল্লা : প্রখ্যাত ইউরোলজিস্ট ও কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন অধ্যাপক ডা. মোঃ কামরুল ইসলামের নাম, ছবি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির সাহায্যে ক্লোন করা কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে ভুয়া এবং অনুমোদিতহীন ওষুধ বিক্রির অভিযোগে এক প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ।
চট্টগ্রাম মহানগরের বায়েজিদ বোস্তামি ও পাঁচলাইশ এলাকায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা: তানভির আলম ওরফে রাহাত (২৩), মোঃ নূরনবী ইসলাম ওরফে মানিক (২৩)
জব্দকৃত আলামত: অভিযানকালে আসামিদের হেফাজত থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৩টি মোবাইল ফোন, ৪টি সিম কার্ড এবং ‘Prostulin F’ নামের ৭ পিস ভুয়া ভেষজ ফুড সাপ্লিমেন্ট জব্দ করা হয়।
ঘটনার বিবরণ ও যেভাবে চালানো হতো প্রতারণা: ডিবি সূত্র জানায়, চক্রটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অধ্যাপক ডা. মোঃ কামরুল ইসলামের নামে ভুয়া পেজ খুলে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করত। পরবর্তীতে এআই (AI) প্রযুক্তির সহায়তায় চিকিৎসকের ছবি ও কণ্ঠস্বর নিখুঁতভাবে তৈরি করে প্রস্টেটের সমস্যা, শারীরিক ও যৌন দুর্বলতা দূর করার ভুয়া প্রতিশ্রুতি দিয়ে ‘Prostulin F’ নামক ওষুধের প্রমোশনাল ভিডিও ও ছবি প্রচার করত। ডা. কামরুল ইসলাম দেশজুড়ে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও বিশ্বস্ত চিকিৎসক হওয়ায় অনেকেই বিভ্রান্ত হয়ে এসব মানহীন ওষুধ কিনে প্রতারিত হচ্ছিলেন এবং মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছিলেন।
মামলা ও ডিবি পুলিশের তদন্ত: নিজের নাম ও কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে এ ধরনের প্রতারণার বিষয়টি নজরে আসার পর ডা. কামরুল ইসলামের ব্যক্তিগত সহকারী শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা (মামলা নং-১০, তারিখ: ১১/০৭/২০২৬; সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬) দায়ের করেন।
ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার জনাব সৈয়দ হারুন অর রশীদ, বিপিএম-এর নির্দেশনায় এবং ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের অতিঃ উপ-পুলিশ কমিশনার জনাব মোহাম্মদ আমিনুল হক বাপ্পীর নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিবির প্রাথমিক যাচাইয়ে তাদের ডিভাইসে ভুয়া পেজ পরিচালনা ও প্রতারণা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জনস্বার্থে ডিবি সাইবার বিভাগের বিশেষ পরামর্শ:
১. অনলাইনে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেকোনো ওষুধ কেনার আগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, হাসপাতাল বা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সরকারি অনুমোদন ও বৈধতা ভালোভাবে যাচাই করে নিন।
২. কেবল ফেসবুকের বিজ্ঞাপন বা অপরিচিত কারও কথায় প্রলুব্ধ হয়ে অননুমোদিত ওষুধ কিনে নিজের জীবন ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলবেন না।
৩. কোনো প্রকার সাইবার অপরাধ বা প্রতারণার শিকার হলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানা অথবা সাইবার পুলিশের আইনি সহায়তা নিন
