শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ কক্সবাজারে দ্রুত বিচার আইনে মামলার আবেদনে সাংবাদিক হয়রানির অভিযোগ

মানববন্ধনে না থেকেও মামলায় দুই সাংবাদিক!

কক্সবাজারে দ্রুত বিচার আইনে মামলার আবেদনে সাংবাদিক হয়রানির অভিযোগ

রিয়াজ উদ্দিন, কক্সবাজার : ফেসবুক লাইভে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের এক নারী নেত্রীকে নিয়ে আইনজীবীর বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়েরের আবেদন করা হয়েছে। তবে ওই কর্মসূচিতে উপস্থিত না থাকা এবং ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকা দুই পেশাদার সাংবাদিককে এজাহারনামীয় আসামি করার অভিযোগে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

সাংবাদিকদের দাবি, প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিও ফুটেজ যাচাই না করে সাংবাদিকদের মামলায় জড়ানো হলে তা পেশাগত হয়রানির শামিল। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত আক্রোশে দ্রুত বিচার আইনের মতো গুরুতর আইনের অপব্যবহার হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।

মামলার বিবরণ

মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) আইনজীবী মোসলেম উদ্দিনের টাঙানো ছবিতে জুতা নিক্ষেপ করেন কিছু বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারী।

এ ঘটনায় ১০ দিন পর গত ১৩ সেপ্টেম্বর আইনজীবী মোসলেম উদ্দিন বাদী হয়ে এনসিপি নেত্রী জিনিয়া শারমিন রিয়াসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা নিষ্পত্তির আবেদন করেন। এতে অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারনামীয় আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—রাইয়ান কাশেম, মোহাম্মদ হোসাইন, আরিয়ান খান ফারাবী ওরফে ডালিম, সোহানুর রহমান সোহেল, সাঈদ স্বাধীন, আতাহার সাকিফ, আহসান জোবায়ের, জায়েদ বিন আমান, মোহাম্মদ রহমান সোহেল, মোহাম্মদ আবদুল হালিম, শামসুল আলম শ্রাবণ, আবদু শুক্কুর রুবেল ও এনামুল হক।

অনুসন্ধানে দুই সাংবাদিককে নিয়ে প্রশ্ন

অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগে কক্সবাজারের একটি স্থানীয় ফেসবুক লাইভ সাক্ষাৎকারে এনসিপি নেত্রী ও জুলাইযোদ্ধা জিনিয়া শারমিন রিয়াকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন আইনজীবী মোসলেম উদ্দিন। এর প্রতিবাদে প্রেস ক্লাবের সামনে ছাত্রসমাজ ও জুলাইযোদ্ধারা মানববন্ধন এবং ছবিতে জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি পালন করেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

তবে মামলার ১১ নম্বর আসামি দৈনিক আমার সংবাদ-এর কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি মোহাম্মদ আবদুল হালিমের বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার দিন তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে শয্যাশায়ী ছিলেন। স্বজনদের দাবি, তিনি প্রায় অচেতন অবস্থায় ছিলেন।

অপরদিকে, ১২ নম্বর আসামি দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ-এর জেলা প্রতিনিধি শামসুল আলম শ্রাবণ ওই সময় নিজ বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

দুই সাংবাদিকের দাবি, মানববন্ধন ও জুতা নিক্ষেপের ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অথচ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, ভিডিও ফুটেজ কিংবা সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই না করেই তাদের মামলায় আসামি করা হয়েছে।

সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কক্সবাজারের সচেতন মহল ও সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, সংবাদকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে কোনো পক্ষের ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার করা উচিত নয়।

সাংবাদিকদের অভিযোগ, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের কারণে হয়রানি করতে দ্রুত বিচার আইনের মতো গুরুতর আইন ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি বন্ধ এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

তবে মামলার অভিযোগের বিষয়ে আইনজীবী মোসলেম উদ্দিনের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক মন্তব্য এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা